বিতর্কিত মৃত দেহের চর্বি দিয়ে সৌন্দর্য বর্ধন এখন জনপ্রীয়তার শীর্ষে

প্রশান্তি ডেক্স॥ ওজন কমানোর ওষুধ ওজেম্পিক বা মনজারোর জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে এক অদ্ভুত ও বিতর্কিত কসমেটিক চিকিৎসার চহিদা আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে, যার নাম ক্যাডাভার ফ্যাট ইনজেকশন বা মৃতদেহের চর্বি দিয়ে সৌন্দর্যবর্ধন।

ওজেম্পিক সেবনের পর দ্রুত ওজন কমে যাওয়ায় অনেকের স্তন, নিতম্ব বা মুখের ত্বকে শুল্কতা ও চামড়া ঝুলে পড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু শরীর অতিরিক্ত শুকিয়ে যাওয়ার কারণে প্লাস্টিক সার্জনদের কাছে নিজেদের পুনর্গঠনের মতো পর্যাপ্ত নিজস্ব চর্বিও থাকে না। আর এই সমস্যার সমাধান হিসেবেই মৃত অঙ্গদাতাদের দেহ থেকে সংগৃহীত ও প্রক্রিয়াজাত চর্বি দিয়ে তৈরি অ্যালোক্লে বা রেনুভা-এর মতো সামগ্রী ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে পুশ করা হচ্ছে।

নিউ ইয়র্কের প্লাস্টিক সার্জন ডা. মেলিসা ডফট ও ড্যারেন স্মিথ জানান, ওজেম্পিক সেবনকারীরা তলপেট বা পা চিকন রাখতে চাইলেও স্তন বা নিতম্বের আকর্ষণীয় আকার ফিরিয়ে আনতে এই বিকল্প পথ বেছে নিচ্ছেন। এতে চিকিৎসায় কোনও কাটাছেঁড়া বা সেরে ওঠার জন্য দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয় না।

প্রক্রিয়াজাত চর্বি মৃতদের দেহ থেকে নেওয়ায় নৈতিকতা নিয়ে বিতর্ক চললেও ধনী গ্রাহকদের তাতে মাথাব্যথা নেই। আরেক সার্জন ডা. হেইদে হিরমান্ড বলেন, আমি ভেবেছিলাম মানুষ এতে ভয় পাবে, কিন্তু বাস্তবে বেশিরভাগ রোগীই শুধু সুবিধার বিষয়টি দেখেন।

পাঁচ হাজার থেকে ৪৫ হাজার ডলার (কিছু ক্ষেত্রে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত) খরচের এই থেরাপি এখন অঢেল অর্থের মালিকদের কাছে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

সূত্র: ওডিটি সেন্ট্রাল

Leave a Reply

Your email address will not be published.