প্রশান্তি আন্তর্জাতিক ডেক্স ॥ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা নিয়ে মিশ্র সংকেত এবং চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের অপেক্ষায় গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা বেড়েছে। গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) ০২:৫৭ পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৯ দশমিক ৮১ ডলারে দাঁড়ায়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

মুম্বাইভিত্তিক কেদিয়া কমোডিটিজের পরিচালক অজয় কেদিয়া বলেন, স্বর্ণ বর্তমানে মূল্য-সমন্বয়ের পর্যায়ে রয়েছে। শ্রমবাজার দুর্বল হলে মার্কিন ডলারের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে, যার ফলে স্বর্ণের দাম বাড়তে পারে।
ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত জ্বালানির ব্যয় বাড়িয়েছে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্বর্ণকে সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হলেও, সুদের হার বেড়ে গেলে সুদ না দেওয়া এই ধাতুর ওপর চাপ সৃষ্টি হয়।
বর্তমানে বাজারে সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ৬৫ শতাংশ হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সর্বশেষ নীতিনির্ধারণী বৈঠকে বিভক্ত মতের মধ্যেও ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রেখেছিল।
অজয় কেদিয়ার মতে, সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা কমে গেলে তা স্বণের্র দামের জন্য সহায়ক হবে। মূল্যস্ফীতির চাপ ধীরে ধীরে কমবে বলে আশাব্যক্ত করেছেন নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জন উইলিয়ামস। তবে তা না হলে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়াতে দ্বিধা করবে না।
এদিকে, স্পট সিলভারের দাম ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৮ দশমিক ৭৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৪৬ দশমিক ৫৯ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দামও ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২৭৯ দশমিক ৫৫ ডলারে উঠেছে।
বাংলাদেশে গত বৃহস্পতিবার থেকে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৬ আগষ্ট) সকাল থেকে বাজুস ষ্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, একই দিন সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।
নতুন মূল্য অনযায়ী, ২২ ক্যারেট হলমার্ক করা ক্যাডমিয়াম স্বর্ণালংকারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি গ্রাম ১৯ হাজার ৯৭০টাকা। সে হিসেবে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৬০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট হলমার্ক করা স্বর্ণের দাম প্রতি গ্রাম ১৯ হাজার ৭৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রতি গ্রাম ১৬ হাজার ৩৮০টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দান প্রতি গ্রাম ১৩ হাজার ৩৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। রৌপ্যালংকারের ক্ষেত্রেও নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে বাজুস। ২২ ক্যারেট হলমার্ক করা রৌপ্যেও দাম প্রতি গ্রাম ৪২০ টাকা, ২১ ক্যারেট ৪০০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৩৪৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রৌপ্যেও দাম প্রতি গ্রাম ২৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।