পর্যটকরা হতাশা নিয়ে রাঙ্গামাটি ছাড়ছেন

প্রশান্তি ডেক্স ॥ রাঙ্গামাটির পাহাড় ও হ্রদের অপরূপ সৌন্দর্যের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতু এখন পানির নিচে। টানা বৃষ্টি আর উজানের পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় তলিয়ে গেছে দৃষ্টিনন্দন সেতুটি। এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত পর্যটক যেমন হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন, তেমনই স্থবির হয়ে পড়েছে স্থানীয় পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা-বাণিজ্য।

দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সেতুর প্রবেশমুখে লাল পতাকা টাঙ্গিয়ে এবং বাঁশ দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে পর্যটন করপোরেশন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বহু ভ্রমণপিপাসু সৌন্দর্য উপভোগ করতে না পেরে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এতে লোকসানের মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা জানিয়েছেন, ঝুলন্ত সেতুকে কেন্দ্র করে রাঙ্গামাটিতে গড়ে ওঠা বিশাল পর্যটন অর্থনীতি এখন স্থবির। সেতু বন্ধ থাকায় পর্যটকদের আনাগোনা কমে গেছে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ওপর। কাপ্তাই হ্রদে ভ্রমণের জন্য পর্যটকরা ঘাটে না আসায় অলস বসে আছে শতাধিক ইঞ্জিনচালিত বোট। স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাক, টেক্সটাইল ও হস্তশিল্পের দোকানগুলোতে ক্রেতার দেখা নেই। দৈনিক বিক্রি নেমে এসেছে প্রায় শূন্যের কোঠায়।

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে আসা পর্যটক মো. আশরাফুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ইচ্ছে ছিল রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত সেতুটি কাছ থেকে দেখবো। কিন্তু এখানে এসে দেখি সেতুটি পানির নিচে ডুবে আছে। একটা ছবি তোলারও উপায় নেই, মনটাই খারাপ হয়ে গেলো।’

স্থানীয় বোট মালিক সমিতির ইজারাদার মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘বছরের এই সময়ে পর্যটকদের যে ভিড় থাকে, তা দিয়ে আমাদের সারা বছরের সংসার চলে। কিন্তু সেতু ডুবে যাওয়ার পর থেকে আয় পুরোপুরি বন্ধ। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের আর্থিক লোকসান গুনতে হবে।’

হোটেল মালিক মো. সুমন মিয়া বলেন, রাঙ্গামাটিতে যারা আসেন তাদের অন্যতম গন্তব্য থাকে ঝুলন্ত সেতু। সেতুটি ডুবে থাকায় প্রতিদিন বুকিং বাতিল হচ্ছে। পর্যটক সংকটের কারণে হোটেল, মোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোতে আর্থিক লোকসান গুনতে হচ্ছে।

রাঙ্গামাটি পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক অলোক বিকাশ চাকমা বলেন, পাহাড়ি ঢলে হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সেতুটি ডুবে যায়। সেতুতে ৪-৬ ইঞ্চি ডুবে আছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সেতুর প্রবেশমুখে লাল পতাকা টাঙ্গিয়ে বাঁশ দিয়ে চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। আশা করছি অল্প কয়েকদিনের মধ্যে হ্রদে পানি কমে আসলে আবারও পর্যটকদের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।

রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপু বলেন, নতুন একটি সেতু নির্মাণে ইতোমধ্যে সার্ভের কাজ চলছে। আশা করছি, উঁচু করে নতুন একটি আধুনিক সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুতই শুরু হবে। সেতুটি নির্মাণ শেষ হলে রাঙ্গামাটিতে পর্যটকদের আগমন আরও বাড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.