এক জেলার সাত স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের জেনারেটর নষ্টে চিকিৎসা ব্যাঘাত ঘটছে

প্রশান্তি ডেক্স॥ জ্বালানি বরাদ্দ না থাকায় সিরাজগঞ্জের সাতটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জেনারেটর দীর্ঘদিন ধরে অকেজো পড়ে আছে। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলে ব্যাহত হচ্ছে হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাসেবা। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে অন্ধকারে পড়তে হচ্ছে বিভিন্ন ওয়ার্ড। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন ভর্তি রোগী, স্বজন ও চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া, উল্লাপাড়া সদর, তাড়াশ, বেলকুচি, চৌহালী, কামারখন্দ ও কাজীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জেনারেটরগুলো জ্বালানির অভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না। তবে শাহজাদপুর ও রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জেনারেটর সচল রয়েছে বলে জানা গেছে।

জ্বালানি বরাদ্দ না থাকায় বন্ধ : হাসপাতাল সূত্র জানায়, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) সহায়তায় সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জেনারেটর সরবরাহ করা হয়। তবে জ্বালানির জন্য সরকারি বরাদ্দ না থাকায় নিয়মিত এসব জেনারেটর চালানো সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় কয়েকটি জেনারেটর নষ্টও হয়ে গেছে।

এ অবস্থায় বিদ্যুৎ চলে গেলে হাসপাতালগুলোতে জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য আইপিএস ব্যবহার করা হয়। তবে এসব আইপিএস দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ দিতে পারে না। কোনও কোনও হাসপাতালে আইপিএস ২০ থেকে ৩০ মিনিটের বেশি সচল থাকে না।

ফলে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলো অন্ধকার হয়ে যায়। এতে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা নেওয়া, ওষুধ সেবন ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও গুরুতর অসুস্থ রোগী এবং তাদের স্বজনদের মোবাইল ফোনের আলো বা রিচার্জেবল লাইটের ওপর নির্ভর করতে হয়। বিদ্যুৎ না থাকায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরাও বহির্বিভাগে রোগী পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় সেবা দিতে সমস্যায় পড়েন।

রাতে বেশি দুর্ভোগ : উল্লাপাড়া সদর হাসপাতালের কয়েকজন রোগী জানান, বিদ্যুৎ চলে গেলে ওয়ার্ড অন্ধকার হয়ে যায়। আইপিএস কিছু সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ করলেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে সেটিও বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিশেষ করে রাতে রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ওই সময় চিকিৎসাসেবা বন্ধ রাখা হয়।

যা বলছেন চিকিৎসা কর্মকর্তারা : কামারখন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান বলেন, ‘জাইকার দেওয়া জেনারেটর থাকলেও সরকার থেকে এর জন্য জ্বালানি বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। তাই এটি চালানো সম্ভব হচ্ছে না। আমরা কিছু রিচার্জেবল লাইটের ব্যবস্থা করেছি। আমাদের জরুরি ভিত্তিতে একটি আইপিএস প্রয়োজন।’

তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. ইমরান রাইসুল বলেন, ‘জ্বালানির অভাবে জেনারেটর চালানো যায়নি। দীর্ঘদিন ব্যবহার না করায় সেটি নষ্ট হয়ে গেছে।’

একই কথা বলেছেন উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. মনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘জেনারেটরের জন্য জ্বালানি নেই। আমাদের একটি আইপিএস আছে, কিন্তু সেটি পর্যাপ্ত নয়। ফলে রোগীদের দুর্ভোগ কমছে না।’ এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. নূরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল ধরেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.