নির্বাচন এবং জনমতের ভাবনা

নির্বাচন নিয়ে একটি ধোয়াশা যেন কাটছেই না। বরং মানুষ এখন নির্বাচনে বিরক্ত হচ্ছে বলে মনে হয় কারন একই আসনে একাধিক প্রার্থী এবং একই দলের প্রার্থী কেন্দ্রীক বিবাদ। বিভিন্ন দলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এবং নির্বাচন কেন্দ্রীক মনোভাব যেন মানুষের মনে ইতি ও নেতি উভয় প্রক্রিয়ার ছাপ ফেলেছে। তবে এই দেশের মানুষ চেয়েছিল একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। বিভেদ ও বিভাজনের উদ্ধে উঠে একটি গ্রহণযোগ্য বাংলাদেশী ও বাংগালীদের ঐত্যীয্যবহনকারী নির্বাচন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত যা প্রতিয়মান হয়েছে তাতে সেই পুরোনো হাছিনা মার্কা নির্বাচনই বা নির্বাচনী কার্যক্রমই জনসম্মুর্খে দৃশ্যমান হচ্ছে।

হাছিনা বিভিন্ন কৌশলে ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়োছিল। নির্বাচনী চাটুকারীতা এবং চটুলতায় আইন ও আদালত এবং এই দুইয়েরই ফাঁকফোকরে জনআকাঙ্খাকে জলাঞ্জলি দিয়েছিল। যার জন্য জনমনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছিল। জনতা উত্তাল হয়ে হাসিনা পতনে ভুমিকা রেখেছিল। সে যতই ভাল কাজ করতো তাতে জনগনের মনে বিন্দুমাত্র ছাপ ফেলতে পারতো না। হাসিনার অত্যাচার থেকে ভিন্ন মত ও পথের এবং বিভিন্ন দলের লোকজন যেমন কষ্টভোগ করেছে ঠিক তেমনি তার দলের লোক বা সমর্থক ও নেতা-নেত্রীরাও কারাভোগ এবং নির্যাতন সইতে হয়েছে। তাই আজ তাঁর এই করুন ও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেদিয়ে যেতে হচ্ছে। এটাই একটি জলন্ত শিক্ষা আমাদের আগামীর জন্য।

হাসিনার আমলে নেতারা এমনকি মন্ত্রী ও এমপিরা নিজেদের একজন মহাজন বা খোদা ভেবে জনগণ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে ব্যবহার করতো। কিন্তু তারা ভুলেই গিয়েছিল যে এই জনগণই তাদের প্রভু এবং একদিন; প্রতিদিন তাদের এই জনগণের কাছেই জবাবদিহি করতে হবে। তবে যদি জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক এবং জনগণকে ক্ষমতার মালিক ভেবে কথা ও কাজে এবং চিন্তায় সংমিশ্রন করে সামনে এগুতো তাহলে হয়তোবা এই পরিস্থিতির মধ্যেদিয়ে যেতে হতো না। জনবিমুখতাই বা জনতার অভিমানই আজ হাসিনা বা তার দলের নেতাদেরকে ভোগাচ্ছে। তাই আজ আমরা আগামীর প্রতি এই নিবেদনই করবো যাতে হাসিনার শাষন ব্যবস্থা এবং তার কর্মী ও নেতা এবং মন্ত্রী বা এমপিদের আচারণ ও কার্যকলাপের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে সকল নেতিবাচকতা এবং হামছে বড়া কন হ্যা ভাব দুর করে জনসেবায় মনোযোগ দিতে হবে। নেতা কর্মীকে সেবা করতে এবং সাধারণ মানুষকে সেবায় তুষিত করতে মনোনিবেশ করুন। নয়তোবা বিতারিত হাসিনার দশায় পড়তে আর বেশী দুরে আপনি নন।

নির্বাচন নিয়ে যে সকল জোট তৈরী হয়েছে এবং ঐসকল জোটবদ্ধ নির্বাচন করতে যাচ্ছে তাতে জনমনে সন্দেহ তৈরী হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে অতিকথনে জনমনে অসন্তোষ বা সন্দেহের দানা বাধছে। নির্বাচনী কাজে নিয়োজিতরা যেসকল পদক্ষেপ নিয়েছে তাতে জনঅসন্তোষ ও পক্ষপাতমূলক আচরণ দৃশ্যমান হচ্ছে। প্রশাসন এবং বর্তমান সরকার দ্বারা সুষ্ঠ ও অবাধ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন ও সম্পন্ন করণের ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহ দানা বাধছে। তাই এই সকল বিষয়গুলো সকলের দৃষ্টিতে এনে আশু করণীয় ঠিক করুন এবং সংশোধন সংযোজন এবং বিয়োজনে মনযোগী হউন। সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন দলকে এবং স্বতন্ত্রকে নির্বাচনের বাইরে রাখার কৌশল থেকে বের হয়ে আসুন। সবাইকেই নিয়ে নির্বাচন সম্পন্ন করুন। হ্যা বা না ভোটের প্রচারে অর্থ ব্যায় বা পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ থেকে বিরত থাকুন। আপনাদের আয়োজনই যথেষ্ট আর প্রচারের প্রয়োজন নেই। জনগণই বেছে নেবে হঁ্যা বা না এর যে কোন একটি।

এই নির্বাচনে দৃশ্যমান হয়েছে বাংলাদেশের একটি বৃহৎ অংশকে নির্বাচনের বাইরে অথবা তাদের মতামত প্রদানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা; যা আগে হাসিনাও করেছিল। আর এর কারণেই হাসিনার পতন অবিশম্বাবী হয়েছিল। এখনও ভাবার সুযোগ আছে কিভাবে ঐ বৃহত অংশ সংযুক্ত করে একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য এবং সুষ্ঠ্য নির্বাচন করা যায়; হয়তো সেইদিকে মনযোগ দিলে আরো ভালো। ভালো’র শেষ নেই কিন্তু বর্তমানের ভালো’র চেয়ে আরো ভাল এই সরকারের কাছে জনপ্রত্যাশা। তাই সেই জনপ্রত্যাশায় কান ও নজর দিন। নতুবা টেকসই গণতন্ত্র এবং সংশোধনের কার্যকারীতা ও দীর্ঘস্থায়ীত্ব মাঝপথে হোচট খাবে। পৃথবীর বিভিন্ন দেশের মনোভাব বোঝা বর্তমান অন্তবর্তী সরকারের উচিত। অতিতে হাসিনা তা বুঝতে না পারার ফলই হলো তার আজকের দশা। তাই আমরা কামনা করিনা বা চাইনা বর্তমান সরকার বা ভবিষ্যত সরকার হাসিনার দশায় পতিত হউক।

বার বার রক্ত দিয়ে বার বারই পরাজিত হবে তা হয়না বরং এইবারই শেষ রক্ত দেয়া হিসেবে ধরে কার্যক্রম এগুতে এবং সুসমাপ্ত করতে হবে। এরপরের জনগণ শুধু শান্তি, আনন্দ, নিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা উপভোগে ব্যস্ত থাকবে। যা সুদুর আমেরীকায় মার্টিন লুথার কিং করে দেখিয়ে ও শিখিয়ে গিয়েছিল আর তা আজও অব্যাহত। সেই মা: লুথার কিং এর জীবনী ও শিক্ষা আর দর্শন সম্পূর্ণই বাইবেল ভিত্তিক বা পবিত্র কিতাবুল মোকাদ্দস কেন্দ্রীক। আরো বলা যায় আধুনিক ও সমৃদ্ধ মালয়েশিয়ার রূপকার এবং রূপদানকারী ড. মহাথির মোহাম্মদ। সেই দৃষ্টান্তগুলো আমাদের চোখের সামনে থেকেও আমরা কেন গ্রহণ করিনা তাই এখন দেখার ও ভাবার বিষয়। আমরা এখন কোন দিকে যাব। যুগের চাহিদা ও সময়ের প্রয়োজনে আগামীর প্রত্যাশা পূরণে জনআকাঙ্খার পক্ষে অথবা বিপক্ষে। তবে সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা ও আভিপ্রায় এবং আকাঙ্খার সঙ্গে নাকি এর বাইরের কোন আকাঙ্খা ও প্রত্যাশার দিকে? আমরা জাতি হিসেবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কোন বিকল্প নেই। তাই বিভাজন নয় বরং ঐক্যবদ্ধতাই পারে আমাদের আগামীর মুক্তিকে তরান্বিত করতে।

সন্ত্রাস ও খুন এবং নির্বাচনী বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় নেয়া পদক্ষেপগুলো যথেষ্ট নয়। বরং যেসকল অভিযান পরিচালিত হচ্চে তাতে আগামীতে ভাল ফল পাওয়ার আশায় গুরেবালিই হবে। পেশিশক্তি এবং রক্তারক্তির মহড়া এমনকি প্রাণ নাষের প্রতিযোগীতাই হবে বলে প্রতিয়মান হচ্ছে। যে দলগুলো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে সেইসকল দলগুলোর ক্যাডার বাহিনী এমনকি অসহিষ্ণু ঝগড়াটে বাহিনি মোকাবিলায় একটি স্পেশাল অভিযান পরিচালনা জরুরী। নতুবা নির্বাচন ফ্রি ও ফেয়ার এবং ইনক্রেডিবল ও এনক্লুসিভ হবে না। যা সেই হাসিনার প্রতিধ্বনিতেই নতুন যাত্রারম্ভ করবে মাত্র। আর এই যাত্রা ২৪এর আন্দোলন প্রত্যাশা করেনা। বরং আন্দোলন পূর্ব সংস্কৃতির প্রতধ্বনি ও পূণ:ধ্বনিই যেন বার বার জনতার কানে বাজছে। তাই জনতা এখন হতাশ ও বিভক্ত এবং বিরক্ত। তাই এই হতাশা , বিভক্তি ও বিরক্ত ভাব থেকে বের করে আনায় দায়িত্ব সরকারের এবং সর্বজন বিধৌত রাজনৈতিক দলগুলোর। এই বিষয়গুলি বিবেচনায় নিয়ে আশু পদক্ষেপ নিন। নতুবা জনবিস্ফোরণ ঘটতে বেশী সময় লাগবে না।

পরাজিত সরকার থেকে ভালো কিছু উপহার দিতে না পারলে বর্তমান জনগণ আবার পরাজিত সরকারের দিকে ঝুকবে এমনকি বর্তমানে ঝুকছেও। তাই অতি সম্প্রতি মান্যবর উপদেষ্টাদের বক্তব্য ও বর্তমান নেতৃত্বের অহংকারীব্যক্তিবর্গের বক্তব্যে স্পষ্ট প্রতিয়মান হয় যে পরাজিত সরকার এবং তার দল বৃহৎ এবং এই দেশ ও দেশবাসির জন্য প্রযোজ্য ছিল। যদি তাই প্রমান হয় এই ১৭মাসে তাহলে কেন বিতারিত করা হলো ঐ সরকারকে এই প্রশ্ন এবং জনমনে এবং দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশে এমনকি বিদেশীদের চোখে ও মুখে। তা বিষয়টি নিয়ে আরো গভীরভাবে ভাবতে হবে এবং কার্যকরি পদক্ষেপ নিতে হবে। জনতার আস্থা ও বিশ্বাস ধরে রাখার জন্য ভালো এবং অতি ভালো আর নতুন কিছু যা সার্বজনিন কল্যাণে নিয়োজিত তাই করতে হবে। যা করতে হবে তা অল্প সময়ে এবং স্বল্পমাত্রার পরিকল্পনার অংশ এবং বাস্তবায়ন করে দেখাতে হবে। নতুবা এই হুজুগে জনতা আরা আগ্নেয়গীরীর অগ্নুৎপাত ঘটাতে মরীয়া হয়ে উঠবে।

নির্বাচন সুষ্ঠ ও গ্রহণযোগ্য হউক প্রত্যাশা করি। আর নতুন নির্বাচিত সরকার বিষয়গুলো অনুধাবন করে আগামীর সঠিক বাস্তবতাটুকু বাস্তবায়ন করে বাস্তবসম্মত উপায়ে সকলকে আগলে রেখে অগ্রসর হবে এটাই কামনা করি। জনতার যে প্রত্যাশার প্রত্যাশিত চাপ তা সইবার ক্ষমতা এবং উপযুক্ত যোগান বৃদ্ধিতে নতুন কাজ করুক এবং সেই কাজে এই বৃহৎ জনতাকে কাজে লাগিয়ে জাতির কল্যাণ সাধিত করুক এই কামনাই করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.