লোভ বর্তমান সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী উপাদান। এই উপাদানেই জর্জরিত বিশ্ব। লোভ নিয়ে লিখতে ও বলতে গেলে আজ নিজেকেও লোভীই মনে হয়। এই লোভের উদ্ধে উঠা জরুরী তবে কতজনইবা এই লোভের উদ্ধে উঠতে পেরেছে তাই বিচার ও বিশ্লেষন করা জরুরী। তবে স্ব স্ব ক্ষেত্রে এই বিচার বিশ্লেষণ অতীব জরুরী বা গুরুত্বপূর্ণ। নতুবা এই লোভ নামক সংক্রামক থেকে বের হয়ে আসা প্রায় অসম্ভব। কোন না কোন ভাবে আমরা প্রত্যেকেই লোভী। তবে এই লোভকে যতটুকু সংযত ও সামলানো যাবে ততই মঙ্গল হবে নিজের এবং পরিবারের আর সমাজের ও রাষ্ট্রের।
একটি লোভ এখন বিরাজমান রয়েছে জালানী তেল বিক্রি এবং কেনা এই উভয় পক্রিয়াতেই। বিক্রেতে বিক্রেতা বিভিন্ন ভিতির সমন্বয়ে তার অতিরিক্ত লোভ জায়েজ করেন। আর ক্রেতা বিভিন্ন কৌশলে তাদের লোভ হাছিল করেন। এই লোভ এখন উভয়ের মাধ্যমেই বিরাজমান। কিভাবে এই লোভ সম্বরণ করা যায় বা করা হবে তাই এখন বর্তমানের জন্য হুমকি বা বিশেষ প্যানিক। স্ব স্ব ধর্মীয় শিক্ষার আলোয় আলোকিত করা ছাড়া বিকল্প কিছু কি আছে? আর থাকলে তা আমার জানা নেই। তবে আমি নিশ্চিত ধর্মীয় শিক্ষা বা সৃষ্টিকর্তার অভিপ্রায়ে এই লোভ সম্বরণ করা সম্ভব। আসুন আমরা সৃষ্টিকর্তার কাছে এই সমস্যাকে সপে দিয়ে তাঁর ইচ্ছা ও অভিপ্রায়কে প্রাধান্য দিয়ে সামনে অগ্রসর হই।
অপরদিকে সরকার বা প্রশাসন ও এই লোভের জোয়ারেই গঁ্যা ভাসাচ্ছে। মিথ্যা বলছে এমনকি সত্যকে সত্য বলতে ভয় পাচ্ছে। কারণ সত্য বলতে ভয় নেই বরং সত্যের ধর্মই হলো প্রকাশ পাওয়া বা হওয়া। তাই ক্ষমতা দিয়ে বা মিথ্যা দিয়ে সত্যকে আড়ালের চেষ্টা না করে বরং সত্য দিয়েই সত্যকে মোকাবিলা করা জরুরী। দিন শেষে সকলেই শান্তি ও নিশ্চয়তা আর নিরাপত্তায় মোড়ানো সফলতায় পর্যবসীত হতে দেখা যাবে ও দিবে।
পেট্টোল পাম্প বন্ধ বা পেট্টোল নেই কাগজ লাগিয়ে জনভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। কোথাও কোথাও পেট্টোল আছে কিন্তু বকশিশ বা সীমিত বা মনগড়া নিয়মে চালাচ্ছে ঐ পাম্প। এতে ক্রেতাগন প্রতাড়ণার শীকারে পরিণত হয়েছে। কোথায় আবার হরদম মজুতকর্মে নিয়োজিত ব্যক্তিরা পাম্পের দখল নিচ্ছে। কেউ কেউ আবার মাঝে মধ্যে পাচ্ছেও। এই নৈরাজ্য বন্ধ করা হউক। তবে সবই যেন ধর্মীয় বা সৃষ্টিকর্তার অভিপ্রায়ে হয়। জোর জবরদস্তি বা ক্ষমতা ব্যবহারে না হয়। কোথায় কোথায় আবার ড্রাইভার এবং মটর সাইকেল চালকগণ চিৎকার চেচামেচিতে এক ত্রাসের অভয়ারণ্য সৃষ্টি করেছে। এইসকল অবস্থার অবসান আশু করণীয়তে নিয়ে কাজ করুন। স্ব স্ব অবস্থান থেকে এগিয়ে আসুন এই নৈরাজ্য দূরীকরণে। একটি মিথ্যাকে আড়াল করতে হাজারো মিথ্যায় আশ্রয় নিতে হয় আর এতে সকল ভাল বা সৃষ্টিকর্তার আশির্বাদ নিমিষেই শেষ হয়।
বাংলা ও বাঙ্গালী এবং এর সংস্কৃতি খুবই সম্বৃদ্ধ কিন্তু আমাদের বর্তমান কৃতকর্মের জন্য এই সংস্কৃতি আজ কলুষিত। গর্বের জায়গাটুকু আজ লজ্জায় মিয়ম্রান। একটি ঘটনা উল্লেখ করছি; গত ২৭ তারিখ আমার এক সহকর্মী বাংলাদেশ বিমানযোগে ইউএস থেকে এসেছে। আমি তাকে রিসিভ করতে এয়ারপোর্টে গিয়েছিলাম। তখন দেখলাম দুইজন বাংলাদেশী যারা বিমানের কর্মী ঐ সহকর্মীকে সহযোগীতা করছে। তার লাগেজ ও ব্যাগেজ নিয়ে তারা দুইজন আসছে এবং আমাকে ফোন দিয়ে সহযোগীতার বিষয়ে জানালো। আমি নিজেও উৎসাহিত হয়েছি এই সহযোগীতামূলক সৌজন্যতা দেখে। কিন্তু পরক্ষণেই দেখলাম ঐ দুইজন আমার আমেরীকান সহকর্মীর কাছে টাকা চাইল এবং সাথে বখশিশও। তখন সহকর্মী দুইজনকে দুইহাজার টাকা দিল আর বখশিশটা দিলান। ঐ দৃশ্য দেখে আমি লজ্জ্বায় মাথা নিচু করে দুরে সরে আসছি আর নিজেকে ধিক্কার দিচ্ছি। আমি ঐ দুজনকে দেখে যেমন উৎসহিত ও গর্বিত হয়েছিলাম ঠিক তেমনি করে লজ্বিত ও মাথা নিচু করে গাড়িতে উঠেছিলাম। কি বলব বা করব তা বুঝে উঠতে পারছিলাম না।
ঐ বিদেশীও সহযোগীতা চাইনি এবং এমনকি আমিও চাইনি বরং ওরা স্বইচ্ছায়ই এই সহযোগীতা করে দেশকে তলানিতে নিয়ে জাতি হিসেবে আমাদেরকে মাথা নিছু করতে বাধ্য করলো আর আন্তর্জাতিকভাবে এই জাতিকে হাতপাতা এমনকি সুযোগসন্ধানি জাতি হিসেবে চিহ্নিত করলো। আমি তখন এয়ারপোর্টের ভিতরেই ছিলাম। আমি নিজেই এবং ঐ দুইজন বিদেশী নিজেই এই কাজটুকু করতে পারতাম এবং করতেও চেয়েছি কিন্তু বিমানের ঐদুজন আমাদেরকে করতে না দিয়ে স্বেচ্ছায় এই কাজটুকু করেছে। আমরা তাদেরকে সৌজন্যতা দেখিয়েছি এবং ধরে নিয়েছিলাম বিমানের এই নতুন সেবা আসলেই মনমুগ্ধকর। কিন্তু পরক্ষণেই দেখলাম স্বভাব যায় না মলেই রয়ে গেলো। কথায় আছে কয়লা ধুলে ময়লা যায় না বা পরিস্কার হয়না ঠিক তেননিই বাঙ্গালীরও স্বভাব বদলাবে না। এই লোভ এখন শুধু বাংলাদেশে নয় বরং পৃথিবীর সবজায়গায়ই বিরাজমান। আর লোভের বশবর্তী হয়ে পৃথিবী আজ সংঘাতে লিপ্ত। এই সংঘাতেও লোভেরই জয়-পরাজয় নিশ্চিত হবে। তবে লোভের উদ্ধে উঠে লোভের বিরুদ্ধে কেউ দাঁড়িয়েছে তা আজও দেখা যায়নি। তবে ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে দেখলে কেউ কেউ দাঁড়িয়েছে এবং তারা সফলতায়ও পৌঁছেছে। তবে আসুন আমরা সকল লোভের বিরুদ্ধে দাঁড়াই এবং কথা বলি ও কাজ করি। কথা ও কাজ আর চিন্তার সমন্বয় ঘটিয়ে নিজ নিজ জীবন থেকে এই লোভকে বিতারিত করি। তাহলেই লোভহীন জীবন, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মান সম্ভব হবে। মহান রবের নিকট মোনাজাত ও আর্জি রেখেই লোভের উদ্ধে উঠতে ও উঠাতে কাজ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করলাম। আমীন।।