রাজনীতি ও সংস্কৃতি

রাজনীতি ও সংস্কৃতি এই দুটি শব্দ উৎপ্রোতভাবে জড়িত। একটি ছাড়া আরেকটি অসম্পূর্ণ। বর্তমান সময়ে এই দুটি শব্দেরই ভিন্নতা এবং মতদ্বৈততা পরিলক্ষিত হচ্ছে। কোন কোন ক্ষেত্রে বিলীনও হতে চলেছে। রাজনীতিবিদ হতে হলে দরকার সংস্কৃতির মননে সৃজনশীল উচ্ছাকাংখী স্বপ্নের সারথি হওয়া। ঠিক তেমনি সংস্কৃতি ব্যক্তিত্ব হতে হলে দরকার রাজনীতির মননে সৃজনশীল উচ্চাকাংখি স্বপ্নসারথী হওয়া। কিন্তু এই দুইয়েই বর্তমানের লড়াই। একটিকে বাদ দিয়েই আরেকটি এখন মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। গজাচ্ছে উভয়েরই আগাছা ও পরগাছা। কিন্তু পরিস্কার করণের কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও ব্যবহারকারীর অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। কেউ  কেউ আবার বলছে অপসংস্কৃতির যুগ এখন। আবার কেউ কেউ বলছে অপ রাজনীতির যুগ এখন। কোনটা সঠিক আর কোনটাইবা ভুল তা পর্যালোচনা করাই এখন জটিল হয়ে পড়েছে। সবকিছুই যেনো এলোমেলো হাওয়ায় দুলছে। এখান থেকেই সংস্কৃতি ও রাজনীতিকে সঠিক অবস্থানে ফিরিয়ে নিতে হবে। আর এর জন্য দরকার দুনিয়াবী শিক্ষা ও খোদায়ী জ্ঞান আর সৃষ্টিকর্তার সান্নিধ্য। তাই এই তিন সাধনে ব্রত নিয়ে অগ্রসর হওয়ায় এখন আগামীর রাজনীতি ও সংস্কৃরি ধারক ও বাহক হওয়ার প্রতিযোগীতায় প্রতিযোগী হওয়া উচিত।

কেউ কেউ বলা শুরু করেছেন যে, এখন সবাই রাজনীতির প্রতি ঝুকছে এবং রাজনীতিবীদ হতে ”াচ্ছে। কিন্তু রাজনীতি ও নীতির প্রতিপাদ্যে মনোনিবেশ করার আকাঙ্খা ও প্রচেষ্টা এমনকি চিন্তা ও কর্মের প্রতিফলন নেই বললেই চলে। কিন্তু সমাজে ও প্রতিষ্ঠানে রাজনীতিবীদ এবং সংস্কৃতিসেবী হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। তাই এই অধপতন ঠেকানোয় কারো নেই মাথাব্যাথা। যেন কোন মাথাই আজ আর অবশিষ্ট নেই। অর্থ, বিত্ত্ব, অপসংস্কৃতি, লোভ এবং ক্ষমতা, মিথ্যা এইসকলই যেন রাজনীতি ও সংস্কৃতিকে ঘ্রাস করে বসেছে। ঝেকে বসেছে এর মূলে। কিন্তু এই মূলে কুঠারাঘাত করার এখনই সময়। কেউ আছেন কি এই অসাধ্য সাধনে মনোনিবেশ করতে। সাহস করে সৃষ্টিকর্তার সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসুন তাহলেই সঠিকতা পূণ:প্রতিষ্ঠা লাভ করবে। রাজনীতি ও সংস্কৃতি ফিরে পাবে স্বত্বি ও গতিপথ এবং সঠিক স্তম্ভ।

সকল ধর্মকেই শ্রদ্ধা ও সম্মান এবং স্ব স্ব ধর্মকে ধারণ ও লালন করার মাধ্যমে সকলে মিলেই এক্যবদ্ধ্য সংস্কৃতি ও রাজনীতি পরিচালিত হয় এবং হবে। কিন্তু এই চলমান সময়ে সবই স্তব্ধ। কারণ কি? আশ্চর্য্য এই কারণের পিছে অনুসন্ধান করা জরুরী। যার যার ধর্ম, মত ও পথ অনুসরণ করার কথা ছিল কিন্তু কি হচ্ছে বাস্তবে দৃশ্যমান? যা হচ্চে সবই নেতিবাচকতায় ভরপুর। অপসংস্কৃতি ও অপরাজনীতির ফল। কেউ কেউ বলছে সুফল আবার কেউ কেউ বলছে কুফল। আমি এটিকে ফল বলতে চাই না বরং বলব সৃষ্টিকর্তাবিহীন পৃথিবীতে সৃষ্টিকর্তার অভিপ্রায়ের পরিবর্তে নেতিবাচক অভিপ্রায়ের অগ্রযাত্রা মাত্র। যা দেখছি ও শুনছি এবং যা ঘটছে তা নিতান্তই কম; কিন্তু আরো ভয়াবহ রূপ লাভ করবে অচিরেই। যদি না এখন থেকে এই অগ্রযাত্রায় বাধা না দেয় এমনকি আইনি পদক্ষেপ ও সামাজিক হস্তক্ষেপ জোড়ালো না করে। তবে এই অবস্থান থেকে একক ভাবে উৎরানো সম্ভব না। প্রাশাসন দিয়েও নয় এমনকি সামাজিক প্রতিবদ্ধকতা দিয়েও নয়। তবে সম্বভ সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায়। সকলে মিলে একসঙ্গে পথ চললেই সম্ভব এই সমস্যা থেকে বের হয়ে আসার। তাই ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। বিভেদ ও বিশৃংখলায় নয় বরং ঐক্যবদ্ধতায়ই মুক্তি। আসুন সকল ধর্মানুসারী, গোষ্ঠি, সমাজ, সংগঠন ও রাজনৈতিক দলগুলো এবং আপামর জনতার সংমিশ্রনেই হবে মুক্তি। এই সার্বজনীন ঐক্যই পারে আগামীর সমৃদ্ধি ও শান্তি-শৃঙ্খলা আর নিরাপদ নিশ্চয়তার সেতুবন্ধন রচনা করতে। নতুন এক ইতিহাস রচনায় ভুমিকা রাখতে।

শিক্ষা-স্বাস্থ্য এবং নিত্য প্রয়োজনীয় মৌলিক উপাদানে ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। সমাজে মানুষ এখন দিশেহারা হয়ে একলাচলো রীতি ও নীতিতে অগ্রসর হচ্ছে। তাই এই লক্ষণ শুভ নয় বরং অশুভের হাতছানি দিচ্ছে। বিশ্ব পরিস্থিতির আবরণে যেন এই সৌহাদ্যপূর্ণ সম্পৃত্ত্বির জগতে বিপত্তি না ঘটে তা খতিয়ে দেখতে হবে। নতুবা আমাদের হতভাগা জাতির দুর্দশা আরো বিশালাকারে বৃদ্দি পাবে। তাই এখনই সময় সঠিক পদক্ষেপ নেয়ার। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিরবতা এই অসহিষ্ণু অবস্থায় ঘি ঢেলে এগিয়ে নিচ্ছে বলেই আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে। তবে সকল ক্ষেত্রে নয় কিন্তু জাতিয় ক্রান্তিতে বা ক্রাইসিসে কথা বলে শান্তনা পাশাপাশি পদক্ষেপগুলো স্ববিস্তারে জানানো প্রয়োজন। তিনি জাতির উদ্দেশ্যে ভাষন দিতে পরেন এবং বিস্তারিতভাবে আশ্বস্ত করতে পারেন। তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং সার ও চিকিৎসা আর দ্রব্যমূল্য সম্পর্কে সম্মক ধারণা দিয়ে জাতিকে শান্ত থাকার আশা দিয়ে দিনক্ষণও ঠিক করে দিতে পারেন। যাতে করে অসাধু ব্যক্তিরা আর তাদের অসাধুতা অব্যাহত রেখে নৈরাজ্যের গতি বৃদ্দি করতে না পারেন।

বোবার শত্রু নেই এমনকি কথা কম কাজ বেশী এই সবই ঠিক আছে কিন্তু মাঝে মাঝে কথাও বলতে হবে। প্রয়োজনে কথা না বললে হিতে বিপরিত হতে পারে। চারিদিকে শত্রুরা ঘাপটি মেরে বসে আছে শেষ পেরেক ঠুকার জন্য। তাই ঐ ঘাপটি মারা শত্রুদের আরো কোন সুযোগ না দিয়ে প্রয়োজন সঠিক কথা পরিমাপ করে বলা। কথা বলার পূর্বে বিষয়টি সম্পর্কে একটু পড়াশুনা বা গ্রাউন্ড ওয়ার্ক করুন। তারপর এই বিষয়ে কথা বলুন। নাহয় জাতি হতাশ হবে এবং আস্থা হারিয়ে নতুন কোন আশায় বুকবেধে মোড় নিবে। তাই সময় নষ্ট না করে এখন উপযুক্ত কাজটুকু উপযুক্ত সময়ে করুন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি স্মাষ্ট এবং আপনার পাশে আছে স্মার্টরা। আপনি কথন কি করবেন, কোথায় যাবেন এবং কি বলবেল সবই তারা নির্ধারণ করবে কিন্তু এর মাঝেও আপনি নিজেও একটি গ্রাউন্ড ওয়ার্ক করে বক্তব্য ও বিবৃত্তি দিবেন। আপনাকে অনুসরণ ও অনুকরণ করে আছে লাখো কোটি জনতা। তাই তাদের হতাশ করবেন না এমনকি ভুলপথে নিবেন না আর অযথা লজ্জ্বায়ও ফেলবেন না। আপনার পরিবার এবং আপনাকে জানি তাই আপনার প্রতি সনিবন্ধ অনুরোধ ভেবেচিন্তে কথা বলুন ও পথ চলুন। আপনার বাবার কোলে উঠেছি আর আপনার মায়ের স্পর্শ লাভ করেছি কিন্তু প্রকাশ্যে এবং রাজনীতিতে না এসে শুধু প্রয়োজনে পাশেই থেকেছি আর এখনও থাকব। যে কোন প্রয়োজনে পাশে থেকে নিস্বার্থ্য ও নিশর্তভাবে এগিয়ে নিব। এই কামনাই করি। এভাবেই রাজনীতি এগিয়ে যাক এবং সংস্কৃতি সম্বৃদ্দিতে ভরপুর হউক। এই আশাব্যক্ত করি। আমিন\

Leave a Reply

Your email address will not be published.