করনীয় ঠিক করতে গড়িমসি

আমাদের এখন করনীয় ঠিক করতে দেরী হচ্ছে বা গড়িমসি করে যাচ্ছে। এই অলস বা অজ্ঞতাসূলভ আচরণে ফুসে উঠতে পারে জনতা। আর নিন্দুকের মুখে মুখরোচক সমালোচনা এবং কঠোর ও কঠিন ভাষা ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়ারই সামিল। তবে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে বলে অন্যের কোটে ঠেলে দিয়ে নিজের নমনিয়তা এমনকি চেতনাহীন কর্মকান্ড দৃশ্যমান করছে। এই কথাগুলো আমাদের সরকার বিরোধীদল এবং সাধারণ জনগণের প্রতি পদে পদে প্রতিয়মান হচ্ছে এবং করনীয় ঠিক করার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে এখন হিমসিম খাচ্ছে।

বর্তমানের যে সমস্যা তা একদিনের নয় বরং দীর্ঘদিনের সৃষ্ট। তবে এই সমস্যা থেকে উত্তরণের ব্যবস্থায় ধীরলয় এবং শৈতিল্যে মানুষ হতাশ। বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, তেল আর নিত্যপণ্য এখন আকাশছোয়া অথবা আলাউদ্দিনের চেরাগের মত। তাই এই চেরাগ সন্ধানে সবাই ব্যস্ত। কেউ আর অবসর বা নিস্তার ও নির্ভার নেই। সবাই ছুটাছোটি করে যাচ্ছে এই গ্লানি ও ক্লান্তিকর ঘর্মাক্ত পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসতে। কিন্তু কেউ ই পারছে না বরং এই সমস্যার জাল বিস্তার লাভ করছে। একটি থেকে আরেকটিতে ধাউ ধাউ করে জলে উঠছে।

সরকার গ্রাউন্ড ওয়ার্ক বা পূর্ব প্রস্তুতি অথবা আগাম প্রস্তুতি নেয়ার মত দক্ষতা ও সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যুগের চাহিদায় কাজ করতে গোলমাল পাকিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই অনেকে উত্তেজিত স্বরে কথা বলছে বা বিরক্ত হয়ে তিক্ততার স্বাদ আস্বাদন করাচ্ছে। পরাজিত সরকার বা শক্তি এই ধরণের আচরণ করেই কিন্তু দৃশ্যপট থেকে বিতাড়িত হয়েছে। তাই সবসময় সাবধান থাকবেন। অধৈয্য বা ধৈর্য্য হারাবেন না এবং অতিরিক্ত চাপের কারণে হতাশাগ্রস্ত হয়ে বেফাস কথা বলা বন্ধ করুন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নমনিয়তা এবং ইতিবাচক গ্রহণযোগ্য ও সকলকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার মানুষিকতা এমনকি সকলের পরামর্শ শুনে প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ কার্যকরি পদক্ষেপই গ্রহণযোগ্য ও কল্যাণকামী।

তেল-গ্যাস সমস্যায় সরকার ভুল পথে ছিল। এই সমস্যায় প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশ্য ভাষণ কাম্য ছিল এবং বিস্তারিত পরিকল্পনা জনসম্মুখ্যে উপস্থাপন ও জনতাকে শান্ত থাকার এমনকি প্রয়োজনীয় সকল কিছু পাওয়ার আশা ও নিশ্চয়তা দেয়া জরুরী ছিল। তবে তেল ও গ্যাস চাহিদার তুলনায় ঘাটছি আছে তবে এই ঘাটতি পুরনে ব্যবস্থায় ত্রুটি ছিল। মুখে বলে আছে কিন্তু পাম্পে ও গ্যাস লাইনে গ্যাস নেই তেল ও গ্যাস। প্রয়েজনীয় তেল ও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু মুখে বলে যাচ্ছে আছে। পাম্প দিনের ২টায় তেল দেয়া শুরু করে এবং কেউ ৭টা কেউ ৮টা, কেউ ৯, কেউ ১২টায় পাম্প বন্ধ করে। এইক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোন পরিকল্পনা ছিলনা। কোন কোন পাম্প পুলিশ দিয়ে বন্ধ করানো হয়েছে আবার কোন কোন পাম্প স্থানীয় ক্ষমতা দ্বারা বন্ধ করা হয়েছে আবার কোন কোন পাম্পকে তেল না দিয়ে বন্ধ করানো হয়েছে। সবই দু;খজনক।

তবে সরকার এই সমস্যায় সকল দল ও মত এবং পথের সঙ্গে একত্রে বসে সমাধানে এগিয়ে যাওয়া উচিত ছিল। সরকারী গাড়ি, হাসপাতালের গাড়ি, এম্বুলেন্স, জরুরী সেবায় নিয়োজিত, যেমন: খাদ্য, ঔষধ, এবং সাংবাদিকদের গাড়িতে গুরুত্ব দিয়ে ট্যাংকি ভর্তি করে দেয়ার আদেশ সময়মত দেয়া দরকার ছিল। তাতে সরকার এবং সরকারকে সহায়তাকারীদের কাজের গতি বৃদ্ধি পেত এবং তেল নিয়ে এই লঙ্কাকান্ডেরও লাগাম টেনে ধরা যেত। সবাই তেলের কাছে জিম্মি হয়ে দীর্ঘ এক ও দুইদিন অপেক্ষা করে তেল নিয়ে কাজ ও সাহায্যের ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ লাইনের ফিরিস্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে পিছিয়ে যাওয়ার প্রবণতায় মনোনিবেশ করা হচ্ছে। যা ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত অথবা অজ্ঞতা বা অনভিজ্ঞতার কারণেই হউক। তবে আগামী দিনে সমস্যা মোকাবিলা এবং সমস্যা চিহ্নিতকরণ জরুরী হয়ে পড়েছে।

প্রযুক্তির যুগে এই ধরণের সমস্য সমাধান প্রযুক্তিকেন্দ্রীক হওয়া উচিত এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করে স্বচ্ছতা জবাবদিহীতা নিশ্চিত করা যায়। প্রয়োজন মিঠানোর জন্য পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন চিন্তা ও কর্মের সংমিশ্রনের মাধ্যমে করা উচিত। সকল ব্যাপারে সজাগ থেকে চোখ কান খাড়া রেখে কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে এগিয়ে যেতে হবে। অনেক বাধা বিপত্তি ও প্রতিকুলতাকে মোকাবিলা করে কখনো পাশকাটিয়ে  আবার কখনো মোকাবিলা করে আত্মবিশ্বাসের সহিত এগিয়ে যেতে হবে। তবে সকল ক্ষেত্রে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে পারলে সকল সমস্যা সমাধানে শতভাগ সফলতা নিশ্চিত হয়। আর এর মাধ্যমে জনকল্যাণই সাধিত হয় এবং সরকার ও জনগণ একসুত্রে এগিয়ে যেতে পারে। তাতে সরকারের স্থায়ীত্ব বৃদ্ধি পায়।

স্বাস্থ্যখাতে সরকার আরো মনযোগী হওয়া উচিত নতুবা সরকার আগামী দিনের ভবিষ্যত অন্ধকারের দিকে তলিয়ে যাবে। জনবিস্ফোরন যে কোন সময় বিস্ফোরিত হতে পারে। তাই কোন অবস্থাতেই জনবিস্ফোরন ঘটতে দেয়া যাবে না। বরং সকল কাজে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। স্বাস্থ্যখাতের এই ভংগুর দশা থেকে জাতিকে মুক্ত করে একটি নিশ্চিত ও স্থায়ী ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। সমালোচনা বা পদক্ষেপ নিতে ভুলে যাওয়া অথবা গাফিলতির কোন সুযোগ আর অবশিষ্ট নেই। এখন কাজের সময় ও গতিময়তা নিয়ে অগ্রীম পদক্ষেপ নেয়ার সময়। আপদ কালীন থেকে শুরু করে কয়েক স্তরের পরিকল্পনা হাতে নেয়া উচিত এবং প্রয়োজনীয় সময়ে সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী অগ্রসর হয়ে জনকল্যাণে দৃশ্যমান থাকা এবং রাখা এখন ফরজে আইনে পরিণত হয়েছে।

দল এবং সরকার পরিচালনায় নতুনত্ব আনয়ন জরুরী। দলীয় ক্ষুধা নিবারণের জন্য বৈধ এবং জনকল্যাণকামী কার্যকর ভুমিকায় সকলকে মনোনিবেশ করানো দরকার। নতুবা দেশ তথা জাতির সামনে আরেকটি বিল্পব আসন্ন। ছাত্র রাজনীতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রন করা জরুরী হয়েছে পড়েছে। শাসনের অধিনে এনে শৃঙ্খলার মাধ্যমে ছাত্রদেরকে এগিয়ে নিতে হবে। যেখানে গিয়ে ঠেকেছে সেখান থেকেই লাগাম টেনে ধরতে হবে। দলীয় অংগসংগঠনসমূহ এবং বিরোধীদলীয় সকলকেই। ছাত্রদেরকে লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করতে এবং করাতে পরিবেশ সৃষ্টি করতে ও করাতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। রাজনীতি এবং পড়ালেখা উভয়ই একসঙ্গে চালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনীতিকে পড়ালেখার একটি অংশ হিসেবেই বিবেচিত করতে হবে। ব্যবসা এবং ধান্দাবাজির বা রুটিরুজির অংশ হিসেবে বিবেচনা করা থেকে বিরত রাখতে হবে। এই সবই কিন্তু সরকারকেই করতে হবে। আর সঙ্গে নিতে হবে জনগণকে। নতুবা সবাই রাজনীতিবিদ হবে। ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ার এবং অন্যান্য পেশায় নিয়োজিতরা সমাজ ও দেশ বা রাষ্ট্র থেকে বিলীন হয়ে যাবে। শুধু রাজনীতিবিদই বিদ্যমান থাকবে। আর তখনই জাতির ভঙ্গরতায় কাতরাতে কাতরাতে গভীর খাদে পড়ে অন্ধাকারের তলানীতে গিয়ে ঠেকবে। তাই সিদ্ধান্ত এখনই নিতে হবে এবং তা বাস্তবায়ন করতে হবে। আর তা সবাইকে নিয়েই করতে হবে।

ধর্মীয় উদ্মাদনায়ও সঠিকতা যাচাই করে জাতিকে সঠিক দিকেই ধাবিত করতে হবে। স্ব স্ব ধর্মের সঠিকতায় ধাবিত করাই হবে ইতিবাচক কল্যাণকামী রাষ্ট্র বিনির্মানের এক অমূল্য বন্ধন। আসুন আমরা সবাই স্ব স্ব অবস্থান থেকে দেশ গঠনে মনোনিবেশ করে সঠিক সিদ্ধান্ত সঠিক সময়ে নিয়ে উঠে পড়ে লেগে থাকি। করনীয় ঠিক করতে আর গড়িমসি নয় বরং করণীয়কে কার্যকর বা কার্যরত থেকে সামনে অগ্রসর হই। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে চলি। সবাই মিলেই দেশ। সবার আগে দেশ কিন্ত সবাইকে বাদ দিয়ে নয়। ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে মনোনিবেশ করি সকলকে নিয়েই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.