ভজন শংকর আচার্য্য, কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি ॥ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার দিগন্তজুড়ে এখন সবুজের মাঝে হলুদের সমারোহ। দখিনা হাওয়ায় দুলছে সোনালী বোরো ধানের শিষ, আর সেই দোলায় ভেসে উঠছে হাজারো কৃষকের স্বপ্ন। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বৃষ্টিপাত এবং নিবিঘ্নন সেচ সুবিধার কারণে চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলনের আশায় বুক বেঁধেছেন কৃষকরা। উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, চৈত্রে বৈশাখের খরতাপেও সতেজ রয়েছে ধানক্ষেত। পর্যাপ্ত বৃষ্টির কারণে সেচের খরচ কম হওয়ায় কৃষকরা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। বিদ্যুৎ ও ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকলেও সেচ নিয়েও তেমন দুশ্চিন্তা করতে হয়নি। শ্যামবাড়ি গ্রামের কৃষক বাদশা মিয়া বলেন, এবার ১০ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছি। বিদ্যুৎ-ডিজেলও ঠিকমতো সংকট সৃষ্টি হলেও অধিক বৃষ্টির কারণে সেচ কম লাগছে। তাই চাষে সমস্যা হয়নি।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কসবায় ১৩ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে। গত বছর এ পরিমাণ ছিল ১৩ হাজার ৭২৩ হেক্টর। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আয়শা আক্তার জানান, এখন পর্যন্ত সেচ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মাঠে সোনালি ধানের স্বপ্নের মাঝেই দেখা দিয়েছে নতুন দুশ্চিন্তা হার্ভেস্টার মেশিনের সিন্ডিকেট। ধান কাটার মৌসুম ঘনিয়ে আসতেই হার্ভেস্টার মালিকদের একটি প্রভাবশালী চক্র প্রতি বিঘা জমি কাটার জন্য ৩০০০ থেকে ৩৫০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নির্ধারণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রান্তিক কৃষকরা জানান, এই অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে তাদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে, যা লাভের সম্ভাবনাকে কমিয়ে দিচ্ছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে বেশি দামে হার্ভেস্টার নিতে হচ্ছে, কারণ সময়মতো ধান না কাটলে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একাধিক কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ধান ফলন ভালো হলেও যদি কাটতেই এত খরচ হয়, তাহলে লাভ কী থাকবে? সিন্ডিকেটের কারণে আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। কৃষকদের দাবি, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে হার্ভেস্টার ভাড়ার একটি নির্দিষ্ট নীতিমালা নির্ধারণ করা হোক, যাতে তারা ন্যায্যমূল্যে সেবা পেতে পারেন।
হার্ভোস্টার সিন্ডিকেট প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের কি পদক্ষেপ এবং সরকারের নীতিমালার দাম নির্ধারণ আছে কিনা এবিষয়ে জানতে চাইলে কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছামিউল ইসলাম ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি নন, পাশাপাশি সরকারের নতুন নতুন দাম নির্ধারণ করা হলে পরবর্তী সময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান।
অপরদিকে কৃষি কর্মকর্তা আয়শা আক্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি ও কেমেরার সামনে এবিষয়ে কথা বলতে রাজি নন ধান কাটার সরকারি ও কৃষি অফিস নির্ধারিত কোন দাম নির্ধারণ আছে কিনা না সে বিষয়ে কথা প্রশ্ন করা হলে মৌখিক কেন বক্তব্য না দিয়ে কৃষি কর্মকর্তার লিখিত পেডে প্রতি কানি ৩০ শতাংশের জন্য ২৩০০ টাকার নির্ধারন করার বিষয়টি লিখিত ভাবে জানান।
সব মিলিয়ে, প্রকৃতির সহায়তা ও কৃষকের পরিশ্রমে বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখা দিলেও হার্ভেস্টার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ব্যে সেই স্বপ্ন এখন কিছুটা শঙ্কায় পড়েছে। মাঠজুড়ে সবুজের মাঝে তাই মিশে গেছে অনিশ্চয়তার ছায়া।