এআই ক্যামেরা দ্বারা ট্রাফিক স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা করবে

প্রশান্তি ডেক্স॥ রাজধানিতে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। সম্প্রতি ডিএমপি বিভিন্ন ট্রাফিক সিগন্যাল ক্রসিংসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এআই প্রযুক্তিসহ (এআই বেসড রোড ট্রান্সপোর্ট অ্যাক্ট ২০১৮ ভায়োলেশন ডিটেকশন সফটওয়্যার) উন্নত প্রযুক্তির সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছে। এসব ক্যামেরার ফুটেজের মাধ্যমে বিভিন্ন সিগন্যাল বা ক্রসিংয়ে লাল বাতির সিগন্যাল অমান্য অথবা স্টপ লাইন অতিক্রম, উল্টো রাস্তায় চলাচল, যত্রতত্র যাত্রী উঠিয়ে প্রতিবন্ধকতা, অবৈধ পার্কিং, লেফট লেন ব্লক ইত্যাদি কারণে ডিজিটাল প্রসিকিউশন বা মামলা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি গাড়ির মালিক ও চালকের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে নোটিশও। 

জানা গেছে, রাজধানীর শাহবাগ, ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর, কাওরানবাজার, বিজয়স্মরণী থেকে শুরু করে এয়ারপোর্ট সড়ক পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে আধুনিক প্রযুক্তির এআই-নির্ভর সিসিটিভি ক্যামেরা ও সিগন্যাল লাইট স্থাপন করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ।

সড়কে চলাচলের সময় কোনও যানবাহন যদি লাল সিগন্যাল অমান্য, নির্ধারিত লাইন অতিক্রম বা বাম লেনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, তবে এআই-নির্ভর ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যানবাহনের নম্বর প্লেট স্ক্যান করছে। এরপর সেখান থেকেই অটো জেনারেটেড মামলা দেওয়া হচ্ছে। আবার মামলার তথ্য এসএমএসের মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে মালিকের মোবাইলে।

এ সম্পর্কে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান জানান, গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন সড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণ করে অটো জেনারেটেড মামলা শুরু হয়েছে। এখন থেকে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা হবে এবং এ সংক্রান্ত নোটিশ ডাকযোগে মালিক ও চালকদের কাছে পাঠানো হবে।

নোটিশ পাওয়ার পর মামলার জরিমানা ডিএমপির সদর দফতর সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে পরিশোধ করা হচ্ছে। তবে অনেকে আবার সেটি পরিশোধ করছেন না। যারা পরিশোধ করছেন না তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ডিএমপি।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং উন্নত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে চলাচলকারী রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অবৈধ পার্কিং এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এ জন্য ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণ করে ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মালিক বা চালকের ঠিকানায় অটো জেনারেটেড নোটিশ রেজিস্ট্রি ডাকযোগে পাঠাচ্ছে।

ডিএমপি আরও জানায়, নোটিশ পাওয়ার পর মালিক বা চালকদের ডিএমপি সদর দফতর কিংবা সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে হাজির হয়ে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ অনুযায়ী নির্ধারিত জরিমানা ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করে মামলা নিষ্পত্তি করতে হচ্ছে।

ডিএমপি এক বার্তায় জানায়, “নোটিশ পাওয়ার পরেও সংশ্লিষ্ট মালিক বা চালকরা সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে হাজির না হলে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া (সমন বা গ্রেফতারি পরোয়ানা) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।” বার্তায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে এই প্রক্রিয়ার বাইরে সিসি ক্যামেরা বা ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে মামলার জরিমানা পরিশোধ সংক্রান্ত কোনও ধরনের আর্থিক লেনদেন কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য আদান-প্রদান থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। যদি কোনও ব্যক্তি বা অসাধু চক্র ভিডিও বা সিসি ক্যামেরার মামলার নাম ব্যবহার করে অর্থ পরিশোধের বার্তা দেয় অথবা প্রতারণার চেষ্টা করে তাহলে নিকটস্থ থানা অথবা সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে জানানোর জন্যও বার্তায় উল্লেখ করা হয়। 

Leave a Reply

Your email address will not be published.