কোন পথে হাঁটছে সরকার

দুর্যোগের ক্রান্তিকালে সরকার কোন পথে হাঁটছে তা বুঝে উঠাই এখন দায়। সরলীকরণ, নম্র ও ভদ্র এবং ভালবাসার স্নোহাস্পদ আর ইতিবাচক কল্যাণকামীতায় অগ্রসর হলেও সমুহ বিপদ হাতছানি দিয়ে ডাকছে। অপরদিকে কঠোরতা এবং দমন-পীড়নের দিকে অগ্রসর হলেও সমূহ বিদপ তড়িৎ গতিতে এগুচ্ছে। এই শ্যাম রাখি না কূল রাখী ত্রাহীসম অবস্থায় আপাত দৃষ্টিতে শান্ত সরকারকে বড় বেকায়দাই পড়ে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। বিশেষ করে ইউনূছ সরকার দেশটাকে এমন এক জায়গায় রেখে গেছে যেখান থেকে উত্তরণের পথ ভঙ্গুর। আর কেউ উৎরাতে গেলে তাঁর জীবন বাজি রেখেই এগুতে হবে তবে সফলতার নিশ্চয়তা ৮৬ভাগই নেতিবাচকতায় ভরপুর।

সরকার আন্তর্জাতিক মহলে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে এথন মরিয়া তবে এখন কুল রাখি না শ্যাম রাখি এই অবস্থায় নাজেহাল। ইন্ডিয়া, চীন, আমেরীকা এই তিন দেশের শাপে ন্যাউলে সম্পর্কের মধ্যে কোনটিকে রাখি আর কোনটিকে বাদ দিই এই ফ্যাসাদে এখন দিশেহারা। তবে চেষ্টা করছে একটি একটি করে ব্যালেন্স’র মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যেতে। এই ব্যালেন্সের মধ্যে আবার ভূ রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ জড়িত। এশিয়া, ইউরোপ এবং বাংলাদেশের আশেপাশের দেশগুলোর সাথে মধ্যপ্রাচ্যও ভাগড়া বসাচ্ছে। তাই চতুস্মুখী সমস্যার আড়ালে সরকার এখন কোন পথে এগুবে সেটিই দেখার বিষয়। রাশিয়াও কিন্তু কম যায়নি; এই সকল বিভাদের মাঝে মাথা উঁচু করে তাকিয়ে আছে কিভাবে বৃহৎ ফায়দা লোটা যায়।

সরকার তার করা ওয়াদার বেশিরভাগ অংশই আজ বাস্তবায়ন করতে পারছে না। গ্যাস, বিদ্যুত, তেল, নিত্য পণ্য এমনকি মৌলিক চাহিদার যোগানেও বিশাল ঘাটটি নিয়ে এগুচ্ছে। তবে ওয়াদা বাস্তবায়নে দিনকি দিন দূরূহ রূপ লাভ করছে। সরকার আন্তরিক হলেও পরিস্থিতি ও পরিবেশ এবং ইউনূছের ভঙ্গুর অর্থনীতি আর অপসংস্কৃতি এখন সরকার এবং স্বর্ণ মোড়ানো দেশকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে সরকার দিনকি দিন জনপ্রীয়তার তলানীতে গিয়ে ঠেকবে বলেই মনে হয়।  কারণ বাঙ্গালী হুজুগে পাগল এবং হুজুগেই নাচে। বাস্তবতায় কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। এই বাঙ্গালী নগদে বিশ্বাসী। স্বল্পমেয়াদী লাভে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিতেও উৎফুল্ল। তাই দীর্ঘমেয়াদী লাভের আশায় না থেকে স্বল্পমেয়াদী উৎফুল্লের দিকে মনযোগী হওয়া উচিত।

সমস্যা সমাধানে মনযোগী এবং গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকরী ভূমিকা অত্যাসন্ন। কোনভাবে চুপ থেকে সমস্যা মোকাবিলা করা যাবে না বরং জনপ্রীয়তায় ভাটার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরো বিপদসংকুল হবে। আগে লাঠির শাষন এবং ক্ষমতার ব্যবহার ছিল সুশৃঙ্খলতার পথিক। আর এখন এইসকল হলো বিশৃঙ্খলতার অগ্রপথিক। তাই সাবধানে এগুতে হবে। সেবা দিতে এবং নিতে যাওয়া উভয়ই একমত এবং এক সৌহাদ্যপূর্ণ সুসম্পর্কের মাধ্যমে কার্যসাধন করতে হবে। ক্ষমতা দিয়ে, ভয় দেখিয়ে, এবং ডান্ডা দিয়ে ঠান্ডা করার দিন শেষ। এই সকলের পিছনেই ইউনুছ মহারথি রাংলার শত্রু বিদেশীর বন্ধুর ভুমিকা পালনকারী হিসেবে আজ এক বিরল ইতিহাস। এই ইতিহাস থেকে বেড় হওয়ার সময়ও এখনই তাই জনতার সঙ্গে সম্পর্ক এবং সেই সম্পর্কের মাধ্যমে ভাল মন্দ এবং ভুল ত্রুটি শোধরাতে সময় ব্যয় করুন। হুকুম, ধমক, আইন এই সকলের উদ্ধে উঠে কাজ করুন। এই সকল কিছু আজ ভুল প্রমানিত।

অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কাজ করুন। তবে গরীবের বা উদীয়মান ব্যবসায়ীদের এমনকি প্রান্তিক ব্যবসায়ী ও কর পরিশোধকারীদের রক্ষা করে সাবধানে অগ্রসর হউন। তাদের বিপদে ফেলে কোন পদক্ষেপ নিতে গেলে হিতে বিপরীতই হবে। তবে কর আদায়কারী এবং ভ্যাট আদায়কারীদের জনবান্ধব এবং চারিত্রিক ও ঈমানী সততায় পূর্ণতা লাভে মনোনিবেশ করান। তাহলেই দেশ অর্থনৈতিক সুশৃঙ্খলতায় ফিরে আসবে। নতুবা যাই করুন না কেন তার কোন প্রভাবই অর্থনীতিতে পড়বে না। বরং সমস্যা আরো বৃদ্ধি পাবে। যদি প্রয়োজন হয় তাহলে আমার সহায়তা নিন। গত ২৬ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে যা প্রশাসনিক অদক্ষতা ও অব্যবস্থায়, ভ্যাট ও ট্যাক্স আহরণের ফাঁক ফোকরে। তাই সরকারকে শতভাগ সহযোগীতা করতে প্রস্তুত যদি প্রয়োজন মনে করে। আমি ও আমরা চাই সরকার সফল হউক এবং দেশ ফিরে আসুক সুশৃঙ্খল সমৃদ্ধির পথে।

বাণিজ্য ঘাটতির ক্ষেত্রে যে সকল বাধা তা চিহ্নিত করুন এবং সেই আকারে সেই ঘাটতি দূর করুন। বিদেশী চুক্তির বিষয়গুলো জনআদালতে উপস্থাপন করুন এবং জনতার রায়ের উপর ভিত্তি করে নিস্পত্তি করুন। অন্যের দায় নিজের কাঁধে নিয়ে নিজের সর্বনাশ ডেকে আনবেন না। আমেরীকা কারো বন্ধু হতে পারে না বরং বন্ধুর বেশে প্রবেশ করে সর্বস্ব লুটে নিয়ে খোলসটুকু ফেলে যায়। যা ইতিহাসেই প্রমানিত। তবে বন্ধু সেই যে নি:শর্ত এবং নি:স্বার্থভাবে বিপদে পাশে থাকে এমনকি সামনে এগিয়ে যেতে সহায়তা করে। তাই এই বৈশিষ্টালোকের আলোকে দৃষ্টিপাত দিন। তাহলেই অসম্ভবকে সম্ভবে পরিণত করতে সক্ষম হবেন। তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মত মহব্বত করো। সুতরাং প্রতিবেশী যেই হউক না কেন তার সঙ্গে নিজের মত মহব্বত করলে প্রতিবেশীও একই মহব্বতে জড়িয়ে সমূহ বিপদ কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করবে।

বেতন বৃদ্ধি একটি রেওয়াজ কিন্তু অর্থনৈতিক অবস্থার উপর বিবেচনা করেই এই কাজটুকু করা জরুরী। নতুবা সমাজে আরো বৈষম্য সৃষ্টি হবে। বেসরকারী অফিসে এমনকি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যদি সরকারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেতন বৃদ্ধি করতে না পারে তাহলে কি হবে ভেবে দেখেছেন কি? তাই সার্বিক অর্থনীতি আগে ঠিক করুন এবং সকলকে নিয়েই বৃদ্ধির সুখ ও আনন্দ ভাগাভাগি করুন। সরকার প্রধানের কৃচ্ছতাসাধন সর্বাঙ্গনে ব্যবহার করুন।

পরাজিতরা, দেশবিরোধীরা, বিদেশীরা ওত পেতে থাকা অদৃশ্যমান শত্রুরা কিন্তু কেউই আর থেমে নেই। ইতিমধ্যে হয়তো কিছুটা আন্দাজ করতে পারছেন। যারা একদিন সংগের সঙ্গি ছিল এমনকি যারা একদিন আন্দোলনের সহকর্মী ছিল আজ তারা স্ব স্ব স্বার্থনিয়ে বিচ্ছিন্ন। বরং যে কোন সময় যে কোন সুযোগে সরকারকে বিতাড়িত করতে ব্যতিব্যস্ত। যদি সরকার এই অবস্থা বুঝতে দেরী করে এমনকি আপন মনে করে বুকে আগলে নেয় তাহলে অতি সহজেই মীরজাফরের সেই ছুড়িটা বিধে শলাকলা পূর্ণ করবে। তাই সময় থাকতে সাধু সাবধান। একটি বিষয় স্পষ্ট যে দেশী ও বিদেশীদের কাছে সরকার আস্থার সংকটে পড়েছে। কিছু কিছু কারণে পূর্ণ আস্থা অর্জন করতে ব্যর্থ হচ্চে। এই বিষয়টি সরকারও জানে। তাই কিভাবে আস্থা অর্জন করা যায় সেইদিকে গুরুত্ব দিন। আস্থা অর্জনের মাধ্যমে চলমান উন্নয়ন কর্মকান্ডকে তরান্বিত করুন। সময় কিন্তু কম। তাই সময় ক্ষেপন করা যাবে না। ইউনুছের পাহাড়সম জনসমর্থন অল্পদিনেই ধ্বসে পরিণত হয়েছিল ঠিক এই একই কায়দায় কিন্তু আপনার জন্যও অপেক্ষা করছে। তাই পদক্ষেপ এবং বাস্তবায়ন দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করুন।

মন্ত্রী, এমপি, নেতা নেত্রী এবং সমর্থকদের আরো সাবলিল সেবক হয়ে কাজ করতে নির্দেশ দিন এবং চোখ কান খোলা রেখে পরখ করুন। নতুবা ইদুর বিড়াল খেলার মত একদিন পরাজিত সরকারের ভুমিকায় আপনিও অবতির্ণ হতে পারেন। সরকারের সফলতা কামনা করে এমনকি পরামর্শগুলোর গভীরে মনোযোগী হয়ে কাজ করার আহবান জানিয়ে আজকের মত বিদায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.