সরকার গর্ভনিরোধক সামগ্রীর ব্যবহার বাড়াতে চায়

প্রশান্তি ডেক্স॥ ব্যক্তিগত উদ্যোগে দেশে গর্ভনিরোধক সামগ্রীর ব্যবহার বাড়াতে চায় সরকার। এই তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেছেন, “বর্তমানে দেশের ৫০ শতাংশ মানুষ ব্যক্তিগত উদ্যোগে গর্ভনিরোধক সামগ্রী কিনে ব্যবহার করেন। যথাযথ সচেতনতা বাড়াতে পারলে এটি ৭০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব। ফলে সরকারের ওপর চাপ কমবে এবং সরকার সেই সম্পদ জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে ব্যয় করতে পারবে।”

গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও জাতীয় পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি’ বিষয়ক এক নীতি সংলাপে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এই সংলাপের আয়োজন করে বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ ও সুইডেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, “মাঠপর্যায়ের সেবায় কাজের ডুপ্লিকেশন বা দ্বৈততা কমাতে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, পরিবার পরিকল্পনা এবং কমিউনিটি ক্লিনিকের অধীনে প্রায় ৪০ হাজার কর্মী তিন-চার ভাগে বিভক্ত হয়ে কাজ করছেন।”

সরকার আরও এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করছে জানিয়ে ড. এম এ মুহিত বলেন, “বর্তমান ও নতুন মিলিয়ে মোট এক লাখ ৪০ হাজার কর্মীকে একটি সমন্বিত কাঠামোর অধীনে আনা হবে। তাদের সবার জন্য একই ধরনের জব ডেসক্রিপশন এবং ‘অ্যাসেনশিয়াল সার্ভিস প্যাকেজ’ নিশ্চিত করা হবে, যাতে সেবার মান একরূপ হয়।”

তিনি বলেন, “এখন থেকে শুধুমাত্র জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন, রোগ প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বেশি জোর দেওয়া হবে। একই বাড়িতে তিনবার আলাদা আলাদা কর্মী যাওয়ার ফলে যেমন ডুপ্লিকেশন হয়, তেমনি দূরের অনেক বাড়ি বাদ পড়ে যায়। সমন্বিত কাঠামো হলে এই কাভারেজ গ্যাপ আর থাকবে না।”

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সরকারের স্বাস্থ্য পরিকল্পনার মূল ভিত্তিই হচ্ছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করা। আমরা এমন একটি হেলথ সিস্টেম বানাতে চাই যা সম্পূর্ণ রি-অর্গানাইজড এবং আধুনিক। পরিবার পরিকল্পনার বর্তমান কাঠামোটি আমাদের জন্য বোঝা নয়, বরং বড় সম্পদ। তবে, সময়ের প্রয়োজনে আমাদের এই ব্যবস্থায় বিবর্তন আনতেই হবে।”

স্বাস্থ্য খাতের অর্থায়ন নিয়ে তিনি বলেন, “অর্থের চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ হলো আমাদের অদক্ষতা এবং সময়মতো বাস্তবায়ন করতে না পারা। সরকার স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে এবং পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্য বাজেটের আকার উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published.