প্রশান্তি ডেক্স॥ ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়’ বিলুপ্ত করে এই সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবসহ ১৫ জন কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এখনও পৃথক সচিবালয় বা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য সব দরজা বন্ধ হয়ে যায়নি বলে মনে জানিয়েছেন বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল। গত বুধবার (২০ মে) সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে নিজের চেম্বারে সাংবাদিকদের কাছে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে গত মঙ্গলবার (১৯ মে) এই বিষয়ে রাষ্ট্রপতির আদেশে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ। এছাড়াও আরেকটি পৃথক আদেশে এই কর্মকর্তাদের আইন মন্ত্রণালয়ের যোগদানের তারিখ দেখানো হয়েছে ১০ এপ্রিল। অর্থাৎ এর আগের দিন গত ৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছিল।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির আইন সম্পাদক বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, ‘যেসব জুডিসিয়াল অফিসার সুপ্রিম কোর্ট সেক্রেটারিয়েটের জন্য নিয়োজিত ছিলেন, গেজেট দ্বারা তাদের আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। এটাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কারণ, অর্ডিন্যান্সটি আইনে রূপান্তরিত হয়নি, পার্লামেন্টে পাস হয়নি, সেহেতু এটা ফাংশন করে কীভাবে? সুতরাং স্বাভাবিকভাবে এটা তারা মন্ত্রণালয়ে যুক্ত হবে। পরবর্তী সময়ে তাদের বিভিন্ন জায়গায় পোস্টিং দেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এর মানে এই নয় যে এই পৃথক সচিবালয় বা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্যে সব দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। এটা ঠিক না। কারণ পৃথক সচিবালয়ের বা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বা পৃথকীকরণের জন্য সমস্ত বিষয়ে বিএনপির বক্তব্য আছে, বিএনপি বড় স্টেকহোল্ডার।’
তবে এর আগে যে কমিটি ছিল তাতে বিএনপির কোনও প্রতিনিধি ছিল না উল্ল্লেখ করে বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, ‘প্রতিনিধি না থাকায় বিএনপির পক্ষে যে বক্তব্যগুলো, সেগুলো আসেনি এবং যার ফলে দল মনে করছে অর্ডিন্যান্সটা কমপ্রিহেনসিভ ছিল না। কাজেই এখন পার্লামেন্টে পরবর্তী সময়ে বিএনপি এটাকে কমপ্রিহেনসিভ বিল আকারে আনবে এবং এটা পরিপূর্ণভাবে কার্যকারিতা লাভ করবে।’
তিনি বলেন, ‘এটা নিয়ে দুশ্চিন্তারও কারণ নেই। এ নিয়ে ভিন্ন রকম মন্তব্যেরও কারও কোনও প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।’ এটা আদালত অবমাননার শামিল কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আদালত অবমাননা হবে কেন। সংসদে এটা এখনও পাস হয়নি। বিএনপি তো বলেনি যে এটা আর করবে না। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিল আকারে এমনভাবে আনবে, যাতে পরে এ নিয়ে আর কোনও বিতর্ক বা সমালোচনার সুযোগ না থাকে। এখানে আদালত অবমাননার কিছু নেই।’