কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি ॥ কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর স্বজনদের কাছে টাকা চাওয়ার অভিযোগে এক সেবিকাকে (নার্স) দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ার পর চাকুরী থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গত শনিবার (৬ জুন) রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার ডাঃ মোঃ আসাদুজ্জামান ভূইয়া স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এদিকে গত (৭ জুন) নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজার (অতিরিক্ত সচিব) স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে মুর্শিদা সিনিয়র স্টাফ নাসর্কে সরকারি চাকুরী থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, শুক্রবার রাতে উপজেলার বিশারাবাড়ি এলাকার আবদুল্লাহ (৪) ও খাদিজা (৩) নামের দুই শিশু বিড়ালের কামড়ে আহত হলে চাচা সাব্বির তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়ার সময় দায়িত্বরত নার্স মোর্শেদা আক্তার ২০০ টাকা দাবি করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই নার্স রোগীর স্বজনদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং একপর্যায়ে তাদের একটি কক্ষে আটকে রাখেন। বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারের অন্য সদস্যরা হাসপাতালে গেলে তাদের সঙ্গেও অশোভন আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায় নার্স মোর্শেদা আক্তার রোগীর স্বজনদের উদ্দেশে ক্ষোভ দেখিয়ে বলছেন, ১০০ টাকা কি আপনার জন্য বেশি হয়ে যায় ? আপনি দেন দেন বলছেন, আমি তো ভাবছি আপনি টাকা দেবেন। কিন্তু কেন আপনি টাকা দিচ্ছেন না?
তাকে আরো বলতে শোনা যায়, এ‘খানে ইনজেকশন দেওয়ার নিয়ম নাই। আপনি তাহলে নিচ থেকে কেন দিয়ে আনলেন না। আমি যে দিয়ে দিলাম এটার কোনো মানবতা নাই। আপনি টাকা দিবেন বলে তো দেন নাই।’ এক পর্যায়ে তাদেরকে চলে যেতেও বলা হয়।
ভুক্তভোগী শিশুদের চাচা সাব্বির বলেন, ভাতিজা ও ভাতিজিকে বিড়াল কামড় দিলে রাতে হাসপাতালে নিয়ে যাই। শুরুতে টিকা দিতে কিছুটা অনীহা দেখান ওই নার্স। পরে অনুরোধ করার পর টিকা দেওয়া হয়। কিন্তু টিকা দেওয়ার পরপরই তিনি ২০০ টাকা দাবি করেন। আমরা টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তিনি আজেবাজে কথা বলতে থাকেন এবং একপর্যায়ে আমাদের আটকে রাখেন। ভাই এসে টাকা দিবে বললেও তিনি এতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমরা জেনেছি। ইতোমধ্যে ওই নার্সকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত হবে। দোষী সাব্যস্ত হলে বিভাগীয় মামলা হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন মো. নোমান মিয়া সাংবাদিকদেরকে বলেন, অভিযুক্ত নার্সকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে সাময়িক বরখাস্ত করার পাশাপাশি ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।