আমার একটি পরিকল্পনা আছে

এই কথাটির উৎপত্তি সেই মার্টিং লুথার কিং থেকে এবং বর্তমানে এটি বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে শোনা ও দেখা উক্তি হিসেবে পরিচিত। তবে এই কথাটির মূল রহস্য উন্মোচিত করতে গেলে খুজে পাওয়া যায় এই কথাটি স্বয়ং সৃষ্টিকর্তার। তিনি তাঁর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি আশরাফুল মাখলুকাতকে উদ্দেশ্য করে নবী ইয়ারমিয়ার মাধ্যমে বলেছেন বা জানান দিয়েছেন যে, “তোমাদের জন্য আমার পরিকল্পনার কথা আমিই জানি। সেই পরিকল্পনা তোমাদের মঙ্গলের জন্য অপকারের জন্য নয়। বরং সেই পরিকল্পনার মধ্যদিয়েই তোমাদের ভবিষ্যতের আশা পূর্ণ হবে।” হ্যা তাই হউক। তবে আমাদের স্ব স্ব পরিকল্পনা থাকতেই পারে কিন্তু দিনশেষে সেই পরিকল্পনা সৃষ্টিকর্তার পরিকল্পনার সঙ্গে মিল রেখে এগিয়ে নিলেই সফলতা শতভাগ কার্যকর হয়। তবে সৃষ্টিকর্তার পরিকল্পনার সঙ্গে সাঙ্ঘষ্যিক হলে তা হিতে বিপরীতই হয় এবং হয়েছেও বটে।

আমাদের এখন সময় এসেছে সেই পরিকল্পনার সঙ্গে সংযোজন ও বিয়োজন করার। কারন সময় ও পরিস্থিতিই আমাদেরকে বাতলে দেয় পরিকল্পনার সময়োপযোগী সংযোজন ও বিয়োজনগুলোকে। তবে আমরা দেখেছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কতৃকর্মগুলো এবং পরিকল্পনার ছকে তাঁর দফাওয়ারী খাত এবং অগ্রাধীকারগুলো। সবই কল্যাণকামী চিন্তা কিন্তু এর সঙ্গেও যুক্ত এবং বিযুক্তকরণের উপযোগী সময় এখন। শহর এবং গ্রামকেন্দ্রীর পরিকল্পনার ছক উন্মুক্তকরণ করতে হবে এবং শহরকে শহর হিসেবে রাপায়ন এবং বসবাসউপযোগী করে বিশ্বদরবারে স্বীকৃতি আদায়ে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। গ্রামকের শহরে রূপায়ন করার পরিকল্পনা নিয়ে এগুতে হবে।

বর্তমানে শহরের বসবাস করা এমনকি যাতায়ত যোগাযোগ একেবারে ভেঙ্গে পড়েছে। এই ভেঙ্গে পড়ার পিছনে যদি কোন অশুভ শক্তির হাত থাকে তাহলে প্রথমে সেই হাত সম্পূর্ণ ধ্বংস করে এগুতে হবে। মানুষকে সুশৃঙ্খল পন্থায় নিয়ম ও নিতিতে আপোষহীন করে তুলতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা পালনে বাধ্য করতে হবে। কাউকে জোরপূর্বক বাধ্য করা যায় না বরং বাধ্য করতে হবে স্ব স্ব মহিমায় উদৃপ্ত হয়ে। একটি কথা বলা যায় যে, বর্তমানে শহরে জীবন বিপর্যস্ত হয়েছে অটো রিক্সার অবাধ বিচরণে। যত্রতত্র অটো রিক্সায় মানুষ আক্রান্ত পাশাপাশি আইন এবং যান্ত্রিক জানের জীবনও অতিষ্ট। তবে এই অটো মোকাবিলায় পরিকল্পনা জরুরী। শহরের মানুষের প্রয়োজন কি কি তা খুজে বের করে সেই প্রয়োজনানুযায়ী যাবতীয় ব্যবস্থার উন্নতি সাধন করতে হবে। আমি মনে করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই কয়েক মাসে নিজেও অনুধাবন করতে পেরেছেন কি করা উচিত এবং কিভাবে করা উচিত। তবে সিমাবদ্ধতা থাকবেই তারপরও এগিয়ে যেতে হবে।

একটি বিষয় স্পষ্ট যে, জনগণের প্রয়োজন ছাড়া এমন কিছু করা উচিত না যা জনগণ চায় না। তবে জনগণকে আগে বোঝাতে হবে প্রয়োজনীয়তা এবং তারপর সেই অনুযায়ী জনগণকে নিয়েই একসঙ্গে উন্নয়নের জন্য অগ্রসর হতে হবে। নতুবা বিগত রেজিম এর পরিণতির স্বীকারে পরিণত হতে হবে। তবে সেখান থেকে শিক্ষা নিলে অতিব উত্তম হবে। পরাজিত হাসিনা এবং সুকৌশলে বিদায় নেয়া ইউনূছ এই দুইজন থেকেই শিক্ষা নিয়ে সামনে এগুতে হবে। নতুবা আগামীর কল্যাণ এবং স্থায়ীত্ব কোনটিই সফলতার দিকে এগিয়ে নেয়া যাবে না। বাংলার মানুষ আবেগপ্রবন এবং হুজুগে কান দেয়ায় মনযোগী। বিচার বিশ্লেষনে মনযোগী নয় বরং গুজবে কান দিয়েই সর্বনাশের বারোটা বাজিয়ে ছাড়ে। তাই এই জনগণকে নিয়ন্ত্রণে রেখে সামনে অগ্রসর হউন।

ব্যবসা-বাণিজ্যে, কর ও ভ্যাট এবং সরকারি অফিসের কার্যক্রমে গতিশীলতা আনয়ন জরুরী। এই জরুরী ক্ষেত্রে যেসকল সংযোজন ও বিয়োজন প্রয়োজন তা বাস্তবায়িত করতে প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনায় কিছু সংযোজন ও বিয়োজন আনয়ন জরুরী। সকলকে সকলাবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদীহিতার আওতায় আনয়ন জরুরী। মামলা মোকদ্দমা যেগুলো ফ্যাসিষ্ট বা পরাজিত হাসিনার আমলের ছিল সেগুলো আজও জুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। তার জন্য প্রধানমন্ত্রী কি ভুমিকা নিয়েছেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। তথ্য প্রযুক্তি আইনে বিভিন্ন হয়রানিমুলক মামলায় এখনও মানুষ হয়রানির স্বীকার হচ্ছে যেগুলো হাসিনা সরকার মুখ, হাত, কলম এমনকি সত্যা বন্ধি করার নিমিত্তে করেছিল। সেইসকল মামলা আজও কেন থাকবে? এই প্রশ্ন সকলের। হাইকোর্ট মামলাগুলোকে নিষ্পত্তির জন্য কোন ভূমিকাই নেয়নি এমনকি এখনও পয়সা খরচ করে মামলা শেষ করতে হবে? নির্যাতন, জেল-জুলুম সহ্য করার পর এখন কেন ঐ রেশ টেনে অগ্রসর হতে হবে তাও প্রধানমন্ত্রীর নিকট প্রশ্নকারে রাখা হলো।

বিভিন্ন বৈষম্যগুলোর স্বীকার যারা হয়েছিল ঐ ফ্যাসিষ্ট হাসিনার সরকার দ্বারা তাদের আজও কেন ঐ বৈষম্যের আওতায় থাকতে হবে তারও একটি ফয়সালা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দ্বারা কাম্য। এতে যদি আমার কোন প্রয়োজন হয় এবং ঐ বৈষম্যগুলো এমনকি মামলাগুলো আর অফিস আদালতসহ সকল ক্ষেত্রেই সরকারকে সহযোগীতা করতে স্ব উদ্যোগে আগ্রহী। গত ২৬ বছরের অভিজ্ঞতা এবং স্বচক্ষে দেখা ঝঞ্জাট দূর করতে যা যা করনীয় তা সবই করাতে সরকারকে সহযোগীতার শতভাগ নিশ্চয়তা এবং গোপনীয়তা রক্ষায় বদ্ধ পরিকর। সরকারের পরিকল্পনাকে আরো সম্বৃদ্ধকরণে ভুমিকা রাখতে আগ্রহী। আর তাই আমারও একটি পরিকল্পনা আছে’র মাধ্যমে জানান দিলাম। জনতার সরকার এবং আগামীর সরকার একীভূতকরণের কারিঘরে পরিণত হওয়ার দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। এই প্রত্যাশায় আগামীর নতুন বিষয় নিয়ে আসছি আগামী সংখ্যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.