চারিদিকে স্বার্থের দ্বন্ধে অন্ধ ও বধিরতায় আজ কাতর পৃথিবী ও তার মানবতা। যেদিকেই তাকাই সেদিকেই শুধু স্বার্থের দ্বন্ধ। এতে করে বিনষ্ট হচ্ছে পারস্পারিক সম্পর্ক: পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং ধর্মীয় ও শান্তি আর স্থিতিশীলতা। এই দ্বন্ধের কারণ শুধুই জাগতিকতা। এখানে নেই পরকালীন শান্তির কোন নিশ্চয়তা। তাই এই অল্পদিনের পৃথিবীর জিন্দেগীর জন্য সৃষ্টির সেরাজীব মানুষ আজ দিশেহারা। মানুষের এই অনৈতিক নগ্নতায় মগ্ন থাকার দরুন ইহকাল ও পরকালের শান্তি বিনষ্ট হচ্ছে। এখানে সেখানে উভয়খানেই যন্ত্রণাময় অবস্থায় সৃষ্টি হচ্ছে। তাই সাবধান হওন এবং সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ও তাঁর অভীপ্রায় বুঝার চেষ্টা করুন। সৃষ্টিকর্তার সেই অভীপ্রায় অনুযায়ী চলার চেষ্টা করুন।
সম্পদের স্বার্থ এখন জটিল আকার ধারণ করেছে। এই স্বার্থের দ্বন্ধে মানুষ সমাজ, পরিবার, পরিবেশ এবং রাষ্ট্র পর্যন্ত বিপযস্ত। পারস্পরিক সম্পর্ক এখন বিলুপ্তির পথে। নীরিহ ও এতিমের সম্পদ আত্মস্বাদে মাতোয়ারা হয়েছে মানুষ এবং সমাজের বিত্ত্বশালী এমনকি সন্ত্রাসী চক্রের লোকজন। ভাইয়ে ভাইয়ে দ্বন্ধ এবং বাবা ছেলের দ্বন্ধ, আত্মীয়ের মধ্যে দ্বন্ধ, প্রতিবেশীর মধ্যে দ্বন্ধ এবং অন্ধত্বের আচরণে আবৃত। এইসকলেই প্রমানিত হয় সমাজে কোন শৃঙ্খলা নেই, ন্যায় নীতি ও আদর্শ নেই, আইন -আদালত নেই এমনকি রাষ্ট্রের কার্যকারীতাও নেই। এই নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা যেন আইয়ামে জাহেলিয়া যুগের নব্য সূচনা মাত্র। তবে এইভাবে চলতে থাকলে রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখা বা সমাজ ও সংস্কৃতিকে সুরক্ষা দেয়া এমনকি ধর্মীয় অনুশাষণের মাধ্যমে এগিয়ে নেয়া কোনভাবেই সম্ভব হবে না বরং সকল কিছু ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়ে কারবালার সমাপ্তি ঘটবে। খুন ও ধর্ষন এই দুটি বিষয়ও এখন জটিল আকার ধারণ করছে। তাও কিন্তু ঐ স্বার্থের দ্বন্ধে। এই স্বার্থ কিভাবে দূর করা যায় সেইদিকে মনযোগ দিতে হবে। সৃষ্টিকর্তা তাঁর কালামে বলেছেন “ প্রতিবেশীকে নিজের মত মহব্বত করতে। প্রতিবেশী হক না মারতে। এতিমের হক না মারতে। বিধবার হক না মারতে। আরো অনেক কথাই বলেছেন। শেষে বলেছেন, যারা এইসকল করে বা করেছে তাদেরকে সৃষ্টিকর্তা নিজে শাস্তি দিবেন এবং তারা কখনো সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারবেন না। এই অল্পদিনের পৃথিবীতে কেন আমরা নিজেরা বেপোরোয়া হয়েছি কারণ সারা জীবন বা অনন্তকালের জীবনকে বিনষ্ট করেছি। মহান খোদাকে স্মরণ করুন এবং তাঁর স্মরণাপন্ন হউন। তাঁর সাহার্য্য কামনা করে তাঁর সঙ্গে বসবাসের ব্যবস্থায় শরীক হউন।