ভজন শংকর আচার্য্য, কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি ॥ টানা বৃষ্টিপাত এবং ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ৪৪ কিলোমিটার সীমান্তবর্তী এলাকার বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করায় জনদুর্ভোগ বাড়ছে। তবে ভারী বৃষ্টিপাত না হলে পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

গত সোমবার ভোর থেকে ত্রিপুরা রাজ্যের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করে। সরেজমিনে দেখা যায়, আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী মোগড়া, মনিয়ন্দ ও কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর, তারাপুর এবং দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এবং কাস্টমস হাউস এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলেও দাপ্তরিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। এছাড়া আখাউড়া-আগরতলা স্থলবন্দর সড়কে এখনো পানি না ওঠায় যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
অন্যদিকে, আখাউড়া স্থলবন্দর এলাকার বেশ কয়েকটি সিএন্ডএফ এজেন্টের কার্যালয় এবং আমদানি-রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করেছে। বন্দরসংলগ্ন খাবারের হোটেল ও সীমান্তবর্তী অনেক বাড়িঘরও প্লাবিত হয়েছে। তবে এ পর্যন্ত আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হাওড়া নদী, ছিনাই নদী, বিজনা নদী, সালাদর বাঁধ, কালন্দি খাল এবং জাজি নদী দিয়ে ভারতের পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এতে সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি নদীর বাঁধ নিয়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে।
এ বিষয়ে কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ছামিউল ইসলাম বলেন, “বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে। সম্ভাব্য দুর্গত মানুষের জন্য বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও অন্যান্য সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।” স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পেলে বা উজান থেকে আরও ঢল নেমে এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণ করা হবে।