আন্দোলন আন্দোলন খেলায় মেতেছিল এশিয়া। কিন্তু সেই আন্দোলনের দীপশীখা যেন নিভছেই না। গত হওয়া আন্দোলনগুলো থেকে কেউই শিক্ষা নিচ্ছে না। আর সেই কারণেই আন্দোলন দানা বেধেছে এশিয়া। বর্তমানে আন্দোলন জোড়েশোড়ে বইছে ভারতের দিল্লীতে। দিল্লীর পরে আর কোনদিকে বইবে এই আন্দোলনের ঝড়ো হাওয়া তাই এখন দেখার বিষয়। কবে এই ঘূর্ণীঝর এশিয়া অতিক্রম করবে তাও অবলোকন এবং অনুধাবন করার বিষয়।
সত্য ও মিথ্যার দ্বন্ধে আগুয়ান আন্দোলনের হাওয়া কিন্তু এখনও বইছে না। তবে সকল ঝঞ্জাল কিন্তু মিথ্যা আর মিথ্যার দ্বন্ধের। দাম্বিকতার দ্বন্ধের, অহৎকারের দ্বন্ধের, ক্ষমতার দ্বন্ধের। তাই এইসকল দ্বন্ধ থেকে এমনকি আন্দোলন থেকে সাবধান হউন। নিজেকে বিসর্জন দেয়ার প্রয়োজনীয়তা এই সকল আন্দোলন কামনা করে না তবে মানুষ বিসর্জিত হচ্ছে। তবে এই আন্দোলন হওয়ার কথা ছিল ক্ষমা ও ভালবাসার। সত্য আর মিথ্যার। সৃষ্টিকর্তার অভিপ্রায়ের। কিন্তু বাস্তবে হচ্ছে উল্টোটা।
আমাদের দৃষ্টিসীমার মধ্যে এখন আন্দোলনের দ্বন্ধে মানুষ দিশেহারা। আন্দোলন পরবর্তী নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা কানায় কানায় পূর্ণতা পেয়েছে। সেখান থেকে বের হয়ে আসার রাস্তা ক্ষীণ। তবে বের হওয়ার প্রত্যাশায় জাতি ছটফটাচ্ছে। এখানে নেই কোন নিস্তার। আমজনতার এখন মরিচের দশা। শীল পাটায় ঘষাঘষিতে মরিচের জীবন শেষ। এই শেষ অবস্থানেই রয়েছে আমজনতা। যেকোন সময় দেহ থেকে প্রাণ ত্যাগ করতে পারে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অর্থনীতি সহ সব ক্ষেত্রেই নৈরাজ্য। তবে মানুষের মৌলিক চাহিদার যোগানে এখন সকলেই দিশেহারা। কুল কিনারা না পেয়ে মানুষ দিক-বিদীক ছোটাছুটি করছে, কেউ কেউ আবার কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে বাকরূদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য দিয়ে যাত্রাশুরু আরব স্প্রীং এখন এশিয়া হয়ে অন্যদিকে মোড় নিতে যাচ্ছে। তবে এশিয়ায় এর তান্ডবে লন্ডভন্ড হচ্ছে নীতি, আদর্শ, ক্ষমা ও ভালবাসা এবং সত্যের তৎপরতা। ইতিবাচকতা এখন আন্দোলনের গতিতে হারিয়ে যাচ্ছে নেতিবাচকতার জোয়ারে। এই বিপর্যয়ের মধ্যথেকে নুতন কিছু সৃষ্টি হওয়ার প্রত্যয়ে আবার অনেকে অপেক্ষায় রয়েছে। এই নতুনত্ব কিন্ত সৃষ্টিকর্তার অভিপ্রায়ের নয় বরং মনুষ্য কামনা ও বাসনার যাতনায় সৃষ্টি। আর এইসকল মানুষগুলোই হলো সমাজের উঁচু শ্রেণীর বা ধনীক সমাজ। উন্নত বিশ্বের ধনীক সমাজ আজ হামলে পড়েছে তাদের স্বার্থ্য চরিতার্থে। আর এই শীকারে কাতরাচ্ছে পৃথিবী ও এর অধিনের মানবকুল।
সকল আন্দোলন ও এর বিসর্জনের মধ্যে কোন সফলতা নেই কিন্তু রয়েছে সাময়িক তৃপ্তি। তবে এই তৃপ্তির মাধ্যমেই নেতিবাচকতা এবং অমানবিকতা ও লোভাতুর ধনীক শ্রেণী তাদের স্বার্থ্য হাছিল করে যাচ্ছে। আজ আমরা এইসকল দেখেও না দেখার ভান করছি। শোনেও না শুনার ভান করছি। স্বীকারে পরিণত হয়েও না হওয়ার ভান করছি। এভাবে আর কতদিন বলতে পারেন কি? তবে এখনই সময় জেগে উঠার এবং সৃষ্টিকর্তার অভিপ্রায়ের দিকে এগিয়ে যাওয়ার। এই দীশাহীন অবস্থা থেকে একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই পারেন আমাদেরকে উদ্ধার করতে। আর তিনি উদ্ধার করবেন এটা নিশ্চিত। তবে এই উদ্ধারের যাত্রী হওয়ার জন্য সবাই প্রস্তুত হউন। সৃষ্টিকর্তার দৃষ্টিভঙ্গি এবং তাঁর চেতনা ও শিক্ষা এমনকি দিক্ষায় মনযোগী হউন। ক্ষমা ও ভালবাসাকে প্রাধান্য দিয়ে অগ্রসর হউন। ইতিবাচক ও ন্যায়পরায়নতায় মনযোগী হয়ে চর্চায় আনয়ন করুন। সৃষ্টিকর্তার সান্নিধ্যে থেকে তাঁর ইচ্ছায় এবং নির্দেশনায় পরিচালিত হউন। তাহলেই এই জাতি, দেশ এবং পৃথিবী শান্তির অতল গহবরে হারিয়ে যাবে। ক্ষমা এবং ভালবাসা জয়ী হবে। লোভ, ক্রোধ ও ঘৃণা পরাজিত হবে। নেতিবাচকতা বিতারিত হবে এবং ইতিবাচকতা সুপ্রতিষ্ঠিত হবে। এইভাবেই পৃথিবী মুক্ত হবে মন্দের ও লোভাতুর শ্রেণীর রাহুগ্রাস থেকে। আমরা ফিরে পাব এক বেহেস্তি অভায়রন্য। এই কামনা করেই আন্দোলন থেকে বেরিয়ে আগামীর শুভকামনায় প্রর্থনারত রইলাম। আমিন।।