দখল, চাঁদাবাজ ও শৃঙ্খলায়নে মন্থর গতি

সরকার দখল, চাঁদাবাদ ও শৃঙ্খলায়নে ব্যর্থতার দিকে এগুচ্ছে। সরকারের সংস্থাগুলো ঠিকভাবে কাজ করছে না এমনকি জনগণও ঠিকভাবে তাদের দায়িত্বের ভুমিকা পালন করছে না। এমতাবস্থায় দেশের অনন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পরাভূত ও নাজুক। সমস্ত কিছু এখন সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাস্তান এবং লুটেরাদের হাতে। এই অবস্থা চলতে থাকলে হয়তো একদিন সরকার এবং সারকারের ক্ষমতা উভয়ই বেহাত হবে। চলে যাবে ঐ দখল, চাঁদাবাজ ও বিশৃঙ্খলবাজদের দখলে।

বাড়ী দখল, জায়গা দখল, দোকান দখল, এলাকা দখল এই বাণিজ্য এখন দেদারচে চলছে। দেখার কেউ নেই, শোনার কেউ নেই যেন সেই ইতিহাসের কথা মগের মুল্লুক। এইসব দখলবাজরা যেন মরিয়া হয়ে উঠেছে। প্রতিবাদের ভাষা ও সুযোগ এবং মৌলিক অধিকার সবই যেন হারিয়ে বসেছে মানুষ। আর যারা মৃত্যুকে তোয়াক্কা না করে প্রতিবাদ জানায় তাদের মৃত্যু অত্যাসন্ন। কেউ কেউ মরিয়া অমর হয়েছে।

প্রতিকার চাওয়ার কোন জায়গা নেই এবং চেয়েও পাওয়া যায়নি বরং সর্বস্ব খোয়াতে হয়েছে এবং হয় ও হবে। এটাই রেওয়াজ। তবে এদের আপন পর বলতে কিছু নেই বরং এরা সবসময়ই হিংস্র ও লোভী। এদের কাছে মা-বাবা, ভাই-বোন, চাচা-চাচী, মামা-মামি, দাদা-দাদি, খালা-খালুসহ আরো অনেক আত্মীয়তার বন্ধন বলতে কিছু নেই। আছে শুধু অর্থ, জুয়া, মদ–গাঁজাসহ যাবতীয় নেশা ও নেতিবাচকতা। তবে এদের ঈমান ও আমল বলতে কিছুই নেই। ইহকার ও পরকালও নেই। আছে শুধু নেশা আর নেশা এবং পেশা একটাই হলো টাকা এবং সম্পদ আর ক্ষমতা। তবে এদের চক্ষু লজ্জ্বাও নেই এমনকি মরনেরও ভয় নেই। কারণ এরা দুনিয়ার সকল সহবৎ ও মহব্বত ভুলে গিয়ে নতুন নরকীয় বা দোযখিয় রাস্তায় সওয়ার করে মাতোয়ারা হয়ে আছে। ওদের খোশ জ্ঞানও নেই।

এখনই সময় তাদেরকে সজাগ করার এবং সচেতন করার। দুনিয়াবী মায়া ত্যাগ করানোর এমনকি পরকালীন জীবনের শান্তি ও আনন্দের স্বাদ পাওয়ানোর। পরিবর্তন করার সময় এখন। তাই ভাবুন কিভাবে এদেরকে ইতিবাচকতায় ফিরিয়ে আনা যায়। যেন আর কোন প্রাণ বিনাশ না হয়। এদের কারণে কোন সৃষ্টিরই ক্ষতি সাধিত না হয়। আইন ও আদালত এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক বন্ধনে এদের জীবনকে সঠিকতায় এগিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করা হউক।

রাষ্ট্র এই সন্ত্রাসীদের আর লালন -পালন না করুক। বরং এদেরকে নিয়ন্ত্রণ করুক। এমনকি সুশৃঙ্খল জীবনে ফিরিয়ে নিয়ে আসুক। অন্ধকার জীবন থেকে বের করে নিয়ে আসুক। আলোর দিশারী হিসেবে গড়ে তুলে ইতিবাচক ও কল্যাণকর সমাজ বিনির্মানে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাক। এই কামনাই করি। তবে যদি এখনই এদের লাগাম টানা না হয় তাহলে ইতিহাস নতুনের দিকে বাক নিতে বেশী সময় লাগবে না। কারণ এই নৈরাজ্যময় অন্ধকার আর বেশীদিন টিকে থাকবে না। ভোক্তভোগীরাই একদিন হয়তো এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের দেয়াল সম্প্রসারিত করে এদের রুখে দিবে। সেই ইতিবাচক মৌলিক অধিকার রক্ষার প্রতিবাদের প্রত্যাশায় রইলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published.