জুলাই আন্দোলনের শিক্ষা

জুলাই আন্দোলন বা বিপ্লবের শিক্ষা কি তা ভুলতে বসেছে এদেশের জনগণ। জুলাই আন্দোলন একক কোন আন্দোলন ছিল না বরং এই আন্দোলন ছিল সামগ্রীক অন্যায়ের বিরুদ্ধে দল মত নির্বিশেষে এক ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন। যাতে অংশ নিয়েছিল দেশের সকল জনগণ। সেখানে ছিল বিএনপি, জামায়াত, জাতিয়পার্টি, আওয়ামীলীগসহ সকল বিভেকবান মানুষ। তাদের আন্দোলনের ফসলেই আজ নতুন সরকার ও নতুন জাগরণ। তবে ঐ আন্দোলনে যদি আওয়ামীলিগের কর্মী ও সমর্থকদের মৌন এবং প্রত্যক্ষ সহযোগীতা না থাকত তবে সেই আন্দোলন সফল হতো না। সেদিন তারা যেমন পরাজিত সরকারের নেতিবাচক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে ছিল ঠিক তেমতি আজও সরকারী দল ও বিরোধী দলের এমনকি পরাজিত সরকার এর দলীয় কর্মী ও সমর্থক আর না খেয়ে ও পেয়ে লাফানো সেই তিন নম্বর বাচ্ছাদের মনোভাব অক্ষুন্ন রয়েছে। তাই সরকার ও বিরোধী দল সামনের কর্মকান্ড নিয়ে সাবধান হওন। নতুবা পরিণতি কিন্তু পরাজিত সরকারের মত হতে বেশী সময় লাগবে না।

জুলাই আন্দোলন থেকে বর্তমান সরকার ও বিরোধী দল এবং বিগত দিনের পরাজিত সরকার কেউ-ই কোন শিক্ষা নেয়নি এবং নিতেও চায়না। মনে হয় জুলাই এমনি এমনিই এসেছিল। কেউ কেউ ভাবছে জুলাই ছিল বিদেশী হস্তক্ষেপ ও অর্থের দ্বারা নেতিবাচক প্রচারণার ও কূটকৌশনের একটি স্ফুলিংগ। তবে যাই হউক জুলাই বার বার আসে না কিন্তু যখন আসে তখন কেউ রেহাই পায়না। তবে এই জুলাই থেকে পক্ষে ও বিপক্ষের সকলেরই শিক্ষা নেয়া উচিত। ৫২ থেকে ২৪ এই আন্দোলন গুলোর মধ্যে দৃশ্যমান মিল রয়েছে। কারণ এই আন্দোলনগুলো ছিল আবেগীয় এবং জনতার ঐক্যবদ্যতার ফসল। বাংলা ও বাংগালির আবেগ ও আবেগের জোয়ারকে অস্বিকার করার কোন সুযোগ নেই এমনকি ছিলও না। তাই সময় থাকতে সাবধান হউন। এইসব আন্দোলনের স্বীকার কমবেশী সকলেই। তাই বাহবা পাওয়া বা পাবার আশা না করে বরং এইসকল আন্দোলন থেকে শিক্ষা নিয়ে এগুলেই বড়ং মঙ্গল ও সাফল্য বহমান থাকবে।

জুলাই আন্দোলনের শিক্ষা ছিল ঐব্যবদ্ধতা এবং ন্যায়-নীতি ও স্বচ্ছনা এবং জবাবদিহীতার। কিন্তু এই সকল ইতিবাচক মূল্যবোধ থেকে যেন জুলাইকে বিচ্ছিন্ন করে বহুধা বিভক্তিতে পরিণত হচ্ছে। যতই দিন যাচ্ছে ততই এই বিভক্তির বিশালতা বিস্তৃত হচ্ছে। তাই সরকার ও বিরোধীদল এবং মতের সকলকেই অনুরোধ করব ফিরে আসুন এক টেবিলে এবং সমাধান করুন ছোট ছোট মতভেদ। সকলকে নিয়ে কাজ করতে নতুন করে প্রচেষ্টা শুরু করুন। মত প্রকাশের ও রাজনীতি করার অধিকারের ক্ষেত্রে সকলকেই ঐক্যবদ্ধ করে একসঙ্গে কাজ করুন। কাউকে বাদ দিয়ে নয় এমনকি বিভক্তি সৃষ্টি করেও নয় বরং বাংলা ও বাংগালী এবং বাংলাদেশী সকলে মিলে এই দেশটাকে গড়ে তুলুন। যে বিভক্তি সৃষ্টি হয়েছে বা করেছেন তার অবসান করুন। নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করুন। নতুন বাংলাদেশ নতুন আঙ্গিকে সাজিয়ে সবার আগে দেশ এই ে¯্লাগানে সবাইকে নিয়ে দেশ কথাটি যুক্ত করুন।

যদি এর বাইরে কিছু করার ইচ্ছা ও বর্তমানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন তাহলে পরাজিত বা ফ্যাসিষ্ট আমলেরই প্রতিচ্ছবি হিসেবে টিকে থাকা ছাড়া আর নতুন কিইবা করার থাকবে। পরাজিতরা যা করেছে তাই যদি করতে থাকেন তাহলে নতুন আর কি পেল জুলাই দ্বারা। শুধু রং এবং ঢং ও নাম পরিবর্তন ছাড়া কিছু কি হয়েছে? না এখও হয়নি আর হওয়ারও লক্ষণ পরিলক্ষিত হচ্ছেনা। আম জনতা ও সাধারণ মানুষ এমনকি নিরপেক্ষ প্রজ্ঞাবান দ্বারা প্রতিনিয়ত হয়েছে যে, জুলাই তার প্রত্যাশার মাত্র ১০% ভাগ অর্জন করেছেন মাত্র আর বাকী ৯০% ভাগ এখন অপুরনীয় অবস্থায় রয়েছে। তবে কথার ফুলঝুরিতে সেই ৯০% ভাগ অপুরনীয় থাকার সম্ভাবনা উকি দিচ্ছে। তাহলে প্রশ্ন জাগে জুলাই বিল্পবের সফলতা কি বিফলতায় পরিণত হচ্ছে বা হবে। এই বিষয়টি এখন সম্পূর্ণ বর্তমান সরকারের উপর।

বর্তমান সরকার নতুনত্ব নিয়ে এসেছে এবং নতুন কিছু করার লক্ষ্যে এগুচ্ছে। কিন্তু এই সরকারের সকলের মনোবৃত্তি কিন্ত এক নয়। সরকার প্রধান মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছে কিন্তু তার ডানে ও বামে যারা রয়েছে তারা কথার ফুলঝুরিতে বলিয়ান এবং কথা ও কাজে মিল রাখতে পারছে না এমননি সরকার প্রধান এর কাছ থেকে কোন শিক্ষাই নিচ্ছে না। সরকার প্রধান যে দৃষ্টান্ত দিচ্ছেন ও দেখাচ্ছেন তা কেউ পাত্তাই দিচ্ছেন না কিন্তু কথায় কথায় বলে বেড়াচ্ছেন। এই বাস্তব শিক্ষায় কেউ কান দিচ্ছেন না। তাহলে দেশবাসী কিভাবে এই শিক্ষায় কান দেবেন এবং কাজে লাগাবেন? প্রধানমন্ত্রীর এখন করণীয় ঠিক করে সামনে এগুতে হবে এই নৈরাজ্য দূর করে নতুন ইতিহাস রচনায়। তবে এই যাত্রা অনেক কঠিন ও ভঙ্গুর তবে হাল ছাড়লে হবে না বরং দৃঢ় ও কঠোর এবং কঠিন মনোবলে সামনে এগুতে হবে; দেশ ও দশকে নিয়ে। ক্ষমা এবং ভালবাসায় সাজাতে হবে বাংলার এবং সুবিশাল সংসার। বাংলা ও বাংগালিকে নিয়ে ঘর করতে হবে। আগামীর ভীতকে মজবুত করতে হলে চোখ-কান খোলা রেখে সংসার পরিচালনা করতে হবে। দেশী ও বিদেশী চক্রান্ত কিন্তু থেমে নেই; তারা কিন্তু সাপেরেও দুধ দেয় এবং বাঘেরেও দুধ দেয়। সুতরাং সাবধান।! সবশেষে বলতে চাই সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে সম্পর্কন্নোয়ন জরুরী এবং সৃষ্টিকর্তার অভীপ্রায় জানাও জরুরী। যদি এই দুইটি কাজ সঠিকভাবে করা যায় তাহলে সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দ্বারা দেশ,  রাষ্ট্র আর পরিবারকে একত্রীকরণ করে সামনে সফলতার সঙ্গে এগুনো সম্ভব। সমালোচনা নয়, দোষ খোজা নয় বরং নিজের দোষ খোজে বের করে আরো মার্জিত এবং নম্র হয়ে ক্ষমা ও ভালবাসায় নিজেকে সাজিয়ে সেবায় মনোনিবেশ করুন। সৃষ্টিকর্তা আপনার ও আমার সকলের সঙ্গেই আছেন এবং থাকবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.