প্রতিবেশীর সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক প্রায় শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। আমাদের দেশের এই ক্রমবর্ধমান ধারাবাহিকতা বিরাজমান রয়েছে বহুদিন পূর্ব থেকেই। তবে এইবার এই দৃশ্যমানতা বহুগুন বৃদ্ধি পেয়ে চরম পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে। প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্কের মাত্রা এখন নির্ধারিত হয় রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মতাদর্শে; পাশাপাশি এও বলা যায় পূর্বসম্পর্কের ভিত্তিতে। এই যদি হয় পারস্পরির সম্পর্কের ব্যরোমিটার তাহলে কিভাবে আমরা এই তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সামনে এগুব? সামনে আমাদের আরো কঠিন সময় আসছে যেখানে পারস্পরিক সম্পর্কই পারে কঠিন ও দুস্তর পথ পারি দিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে।
এই প্রসঙ্গে মহান সৃষ্টিকর্তা বলেছেন “তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মত মহব্বত করো।” এই আদেশটি বড়ই জটিল। নিজের মত মহব্বত করা বড়ই কঠিন। এই সময়ে এসে এই আদেশটি পালন করা সকলের পক্ষে সম্ভব নয় বরং একমাত্র খোদাভক্ত বা সৃষ্টিকর্তায় আসক্ত ও অভিষিক্ত মানুষগুলোর দ্বারাই সম্ভব। এই প্রসঙ্গে আরেক জায়গায় মাবুদ আল্লাহ বলেছেন যে, “তোমার সমস্ত দিল, সমস্ত মন, সমস্ত প্রাণদিয়ে তোমার মাবুদ আল্লাহকে মহব্বত করবে, তার পরের দরকারী হুকুম হলো এই তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মত মহব্বত করবে। এই দুটি হুকুমের চেয়ে বড় হুকুম আর নেই”।
সৃষ্টিকর্তার এই নিয়ম বা আইন অথবা আদেশ আমাদের জন্য শীরধায্য। এই আদেশের মাধ্যমে আমাদের শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা এবং নিশ্চয়তা বিধান করা হয়েছে। তাই আমরা আমাদের প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজার রাখার স্বার্থে নিজের মত মহব্বত করার চর্চা অব্যাহত রাখবো। সুখে দু:খে পাশে থাকব, বিপদে-আপদে পাশে থাকব, আনন্দে শরীক হবো; ঠিক নিজের শরীরের যত্ন যেভাবে নেয়া হয় তেমনি করেই প্রতিবেশীর যত্ন নেয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব।
এখন আমরা প্রশ্ন হলো আমরা কি এই বিষয়গুলোর প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছি নাকি নিজের মত করে নিজেরা পরিচালিত হচ্ছি। নিজের প্রতিবেশীর প্রতি কেমন আচরণ করছি এই বিষয়টির জন্য সৃষ্টিকর্তার আদেশ বা শরীয়ত অথবা মানদন্ড অনুসরণ করছি কি না তা খতিয়ে দেখতে একটু সময় নিয়ে ভাবুন। তারপর নিজের করনীয় ঠিক করতে কাজে নেমে পড়ুন। তবে এই সকল করার আগে সৃষ্টিকর্তার স্মরণাপন্ন হয়ে মোনাজাত করুন এবং সৃষ্টিকর্তার সহায়তা নিয়ে সামনে অগ্রসর হউন।
এভাবেই পরিচালিত হউক আমাদের প্রাত্যহিক বা দৈনন্দিন জীবন চক্র। নিজের প্রতিবেশীর পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশের প্রতিও ঐ একই আচরণের বিকল্প নেই। ক্ষমা এবং ভালবাসায় আমরা আমাদেরকে সাজিয়ে তুলি। প্রতিবেশীর প্রতি পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিকে সৃষ্টিকর্তার আদেশের আদলে সাজিয়ে তুলি। তাহলেই আমরা সকলে নিরাপদ এবং নিশ্চিত। আমাদের এই নিরপত্তা ও নিশ্চয়তা স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত আইনে বলিয়ান। তাই আমরা সকলে মিলেমিশে এই নিরাপত্তায় ও নিশ্চয়তায় নিজেদেরকে আবদ্দ রাখি। এই মোনাজাত সকলের জন্য।