ভজন শংকর আচার্য্য, কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি ॥ ব্রাহ্মণবাড়িয়া কসবা ও আখাউড়া উপজেলা মানুষের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের পথ কসবা- আখাউড়া সড়ক। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির সংস্কার কাজ বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগ দুই উপজেলার বাসিন্দারা। সংস্কার শুরুর পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ গুটিয়ে নেয়ায় সড়কের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টির পানি ও কাদা জমে যান চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে প্রতিদিন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তিতেও পড়তে হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, রুরাল কানেক্টিভিটি ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট’ – এর আওতায় কসবা অংশের প্রায় সাত কিলোমিটার এবং আখাউড়া অংশের চার কিলোমিটারসহ মোট ১৩ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ কোটি ২৩ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি পায় কিশোরগঞ্জের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসাস মনিরুল এন্টারপ্রাইজ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি বেহাল অবস্থায় থাকায় সংস্কার কাজ শুরু হলে তাদের মধ্যে স্বস্তি ও আশার সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু পুরানো সড়কের বিভিন্ন অংশ তুলে ফেলার পর দ্রুত সংস্কার কাজ শেষ না করায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে। বর্তমানে সড়কের অনেক জায়গায় খানাখন্দ, কাদা ও পানি জমে থাকায় স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা যাচ্ছে না।
বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় দুর্ভোগ আরো বেড়েছে। বৃষ্টির পানি জমে সড়কের কোথাযও কোথাযও কাদার সৃষ্টি হয়েছে। এতে সিএনজি চালিত অটো রিশকা, ব্যাটারি চালিত রিশকা, মোটরসাইকেল সহ অন্যান্য যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে ওঠে। জরুরী প্রয়োজনে রোগী নিয়ে চলাচলকারী মানুষও পড়েছেন বিপাকে।
কসবা উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের মাজারুল হক আকন্দ বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে কাজের মেয়াদ জুলাইয়ে শেষ হয়েছে। তবে কাজ এখনো আকাঙ্খিত গতিতে এগোয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
সংস্কারকাজের বর্তমান অবস্থা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য জানতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের সংস্কার কাজ এভাবে বন্ধ থাকলে জনদুর্ভোগ আরো দীর্ঘায়িত হবে। তাদের দাবি, শুধু চিঠি দিয়ে দায়িত্ব শেষ না করে কাজ বন্ধ থাকার পক্ষে তো কারণ খুঁজে বের করতে হবে। প্রয়োজনে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ঠিকাদারের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে দ্রুত সংস্কার কাজ পুনরায় শুরু করতে হবে।