মাকড়সার জালে এখন সরকার

আমরা সবাই জানি ও চিনি মাকড়সার জাল। এই জালে কিভাবে আটকে থাকে মাকড়সার নিথর দেহ তাও জানি। আর এও জানি যে মাকড়সাকে কিভাবে খেয়ে নি:শেষ করে তারই বাচ্চারা। তবে মাকড়সার খোলসটা বেজায় বেলাজা যে, সে তার অস্তিত্বের জানান দিতে দীর্ঘদিন টিকে থাকে। তবে যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে না ফেলে বা ধবংস না করে তাহলে নিজে থেকে ধ্বংস হতে চায় না।

আজ আমাদের জনপ্রীয় সরকারেরও এই একই দশা। সরকার এখন কঠিণভাবে ফেসে গেছে মাকড়সার জালে। এই জালের বিস্তৃতি অনেক লম্বা ও এর গাথুনি অনেক গভীরে। তাই এই জড়ানো জাল থেকে বের হয়ে আসা জরুরী। তবে বের হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম ও ক্ষীণ।

এই মাকড়সার জালটির বিস্তৃতি লাভ করছে দেশী ও বিদেশী ষঢ়যন্ত্রকারীদের দ্বারা। এই জালের ফাঁদে এখন দেশ। সরকার যে যা চায় তাই দিচ্ছে এবং করছে। এটাও কম কি? তবে সবকিছুই ভেবেচিন্তে করা উচিৎ। কারণ সীমিত সময় ও সম্পদ ব্যবহারে আরো পারদর্শী ও প্রারঙ্গম হওয়া উচিত। সুদুরপ্রাসারী চিন্তা ও কর্মের সমন্বয় সাধন জরুরী। নতুবা সরকারকে পস্তাতে হবে সাথে এই দেশের জনগণকেও। তাই সবাইকে রক্ষায় এখন যার যার অবস্থান থেকে কাজ করুন। প্রথমে সরকারকে রক্ষা করুন তারপর নিজে রক্ষার আওতায় থাকুন। সমালোচনা এবং সরকার পতনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত না হয়ে সবাইকে বাঁচানোর প্রক্রিয়ায় যুক্ত হউন।

নিত্যপন্যের যোগানে মনযোগী হউন। প্রয়োজনীয়তার দিকে মনযোগ দিন। বিলাসিতা বা মনরক্ষা এমনকি যে যা চায় তাই দেয়া থেকে বিরত থাকুন। তাহলে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগীতা পাবেন নতুবা হঠাৎ করে পিছলে পড়ার সমুহ সম্ভাবনা উঁকি দিবে। তেল-গ্যাস ও বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নিন এবং দীর্ঘস্থায়ী সমাধানকল্পেও ব্যবস্থা নিন। কালক্ষেপন করে বা পাকনা কথা বলে এমনকি অন্যের উপর দোষ চাপিয়ে নিজের সর্বনাশ ডাকিয়া আনিবেন না। নিজের সমস্যা না ডেকে এনে বরং সমস্যা সমাধানে মনযোগী হউন। মুখের লাগাম টানুন এবং কম কথা কাজ বেশী করুন। জনগণকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও পানি, গ্যাস আর তেল দিয়ে সহযোগীতা করুন এবং সেবার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখুন।

যুদ্ধবিমান কেনা ও বোয়িং বিমান কেনার সময় এখন না বরং নিজের পায়ের নিচের মাটি শক্তকরণের কাজে মনযোগী হউন। বিদেশীদের উপর ভরসা করে বেশীদূর আগানো যায় না। পুর্ববর্তী দুই সরকার যথাক্রমে এক ইউনূছ আর পরাজিত হাসিনা সরকারও ঐ একই কাজ করেছিল আর পরিণতি কি তাতো প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ দুটোই প্রকাশিত ও দৃশ্যমান। তাই সময় থাকতে সাবধান হউন। যারা শুধু সুযোগ খুজে এবং নিতে চায় আর নিজের আখের গোছাতে ব্যবহার করতে চাই তাদের থেকে সাবধান হউন। নতুবা তারাই বিপদে ফেলবে। আর এই বিপদ খুবই কাছে বা সন্নিকটে। মিষ্টি কথার জালে আটকে চক্রান্তের ফাঁদে পা দিয়েন না।

দেশী প্রতিষ্ঠান, সরকারী অফিস, বেসরকারী অফিস সবাই চায় তাদের সুবিধা ও অধিকার আদায় করতে আর সরকারও মরিয়া হয়ে উঠেছে সবাইকে সবকিছু দিয়ে দিতে। ভাল তবে হিসেবে নিকেশ করুন এবং আগামীর সমৃদ্ধি ও যোগান নিশ্চিত করে তারপর সবাইকে যার যার পাওনা বুঝিয়ে দিন। নতুবা একদিন বা অচিরেই নিজেই অভাবে পড়ে নি:স্ব হবেন। আর দু:নাম ও বদনামসহ করুন পরিণতি বরণ করতে হবে। আর এই দায় জনগণ বা সবাই’র কেউই বহন করবে না।

বিভিন্ন অফিসে বা দপ্তরে দৌঁড়াত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। সেবার পরিবর্তে ক্ষমতা দেখাতে শুরু করেছে। যা আগামীর অশনীসংকেত। জনগণ তার ন্যায্য অধিকার চাইবে আর ঐ সকল প্রতিষ্ঠান সেবা দিবে এটাই স্বাভাবিক কিন্তু এই বাইরে যা হচ্ছে তা কিন্তু আগামীর ভয়াভহতাকে স্বাগত জানাচ্ছে। পুনরায় মব সংস্কৃতিকে উষ্কেদিচ্ছে। যাতে বিশৃঙ্খলা আবার ফিরে আসে এবং দেশে অস্থিরতা বিরাজ করে। এটাই কি চাই? না মোটেও না এর থেকে বের হতে চাই। তাই সরকার উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে ঐসকল বিষয়ে দ্রুত সমাধান করুন। নতুবা সব দায় সরকারের উপর বর্তাবে। যারা সেবক তারা যেন সেবার মানষিকতা এবং মনোভাব অব্যাহত রাখেন আর সেবা প্রত্যাশিদের সেবা দিয়ে সন্তুষ্ট করেন। পাশাপাশি মত প্রকাশের স্বাধীনতায়ও বাধা আসছে এমনকি বিভিন্ন জায়গায় হুমকি ধমকি এবং গ্রেফতার অহরত হচ্ছে। তাই এই সকল বন্ধ করুন। মৌলিক অধিকার এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা না দিয়ে সহযোগিতায় মনোনিবেশ করুন।

একটি রব উঠেছে আর একটি রব উঠানো হচ্ছে তাই ঐ দুটো বর থেকেই সাবধান হউন। দুটো রবকেই থামানের জন্য জনগণকে প্রয়োজনীয় যোগান দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান। তাহলেই সম্ভব হবে অসম্ভবকে সম্ভবে পরিণত করার। আর যদি জনগণকে নিজের অধিকারে বা আয়ত্বে অথবা প্রয়োজনীয় যোগান দিয়ে এগিয়ে নিতে না পারেন তাহলে হয় ঐ দুটো রবই কাল হয়ে ধ্বংসনে পতিত করে নি:স্ব এর হাতে ছেড়ে দেবে। সংক্ষিপ্তাকারে আলোচার মধ্যথেকে বিশদ ও বৃহৎতাকারে দেখুন ও ভাবুন। আগামীতে আরো নতুন কোন বিষয় নিয়ে আসব আপনাদেরই জন্য। সেই পর্যন্ত ভাল থাকুন ও ভাল রাখুন। আল্লাহ সহায় হউন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.