চারিদিকের উদ্ধগতি আজ আমাদের জনজীবন প্রভাব ফেলেছে। এই প্রভাবে আম জনতা আজ মাতালের অবস্থায় পর্যবসীত হচ্ছে। এই নাযেহাল অবস্থার উন্নতির কি কোন সুযোগ বা পরিকল্পনা নেই? যদি তাই হয় তাহলে যে আমাদের প্রাণপ্রীয় প্রধানমন্ত্রী তার পরিকল্পনা নিয়ে নিরলষ পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তা কি বৃথা। যদি বৃথাই হয় তাহলে জনতার আশা ও আকাঙ্খা কোথায় গিয়ে বর্তাবে তা কি বলতে পারেন? যদি পারেন তাহলে আপনিই এখান থেকে শুরু করুন আর বাকিটুকু হতভাগা জাতি শেষ করবে।
তেল-গ্যাস-বিদ্যুত-সার থেকে যাত্রা শুরু হয়ে এখন নিত্যপণ্যেও উদ্ধগতির লাগাম টানা যাচ্ছে না তাই এই দিশেহারা জাতিকে কে দেখাবে পথ? যার হাতেই দেশের দায়িত্ব দেয়া হয় সে-ই সেই দায়িত্বে গাফিলাতি বা অনভিজ্ঞতার অজুহাতে অসফল হয় তাহলে এই আভাগা জাতির কি হবে? জাতি যার উপরই আস্থা রাখতে চায় সেখানেই খায় খোচট। কিভাবে এই খোচট খাওয়া বন্ধ করা যায় একটু ভাববেন কি?
এখন চারিদিকে গুম ও খুন এবং দখল – সন্ত্রাস আর চাঁদাবাজিতে সয়লাভ। থামানোর কোন ঔষধ নেই। এর কোন প্রতিষেধক আজও আকিস্কৃত হয়নি। যারা এর প্রতিষেধক এন্টিবায়োটিক তৈরী করতে চেয়েছে তাদেরকেই বিতারিত করা হয়েছে বা পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুনের হাতে ক্ষমতা অর্পন করানো হয়েছে যাতে ঐ এন্টিবায়োটিক আবিস্কারের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে আরো গভীর সমস্যায় নিমজ্জ্বিত হয়।
ধনেপাতা, শসা, কাঁচামরিচ থেকে শুরু করে ঔষধ ও নিত্য পন্যের পাশাপাশি প্রসাধনি সামগ্রীতেও যেন উদ্ধগতির মহামারি লেগেছে। তাই এই মহামারির ভয়ে সাধারণ থেকে অতিসাধারণ এখন দিশেহারা হয়ে মাতলামি করছে। আর ধনিক শ্রেণীরা যেন কোন রকমে সামলে নিয়ে নতুন কিছুর প্রত্যাশা করছে।
শ্রমে ও কর্মে হযবরল অবস্থা বিরাজ করছে। রাস্তায় শৃঙ্খলা নেই। যাতায়তে সময় ও কর্ম নষ্ট। তাই আজ নৈতিকতার বরই অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। উদ্ধগতির বেড়াজালে পড়ে সবই আজ বিপন্ন হয়ে বিলুপ্তির রাস্তা খুজছে। তাই আসুন বিলুপ্তি ঘটার আগেই সকল কিছু পুনরুদ্ধার করি এবং আভাগা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বমহিমায় ও স্বগৌরবে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। যেন এই জাতির জন্য অন্যেরা গর্ব করতে পারে ও এই জাতির কাছ থেকে শিক্ষাও নিতে পারে। ঘুরে দাঁড়ানোর এখনই সময়। তাই সময় আর নষ্ট নয় বরং সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজে নেমে পড়–ন। জাতিকে পুন:গঠিত করুন। বিভাজিত আর বিতাড়িত নয় বরং ঐক্যই পারে আগামীর কল্যাণ সাধন করতে। উদ্ধগতির সকল অসংলগ্নতা বদ্ধ করে স্বতি ফিরিয়ে আনতে। আগে আসলে আগে পাবেন এই সেবাতে বা স্লোগানে যেমন বিশৃঙ্খলার জঞ্জাল বিস্তৃত ঠিক তেমনি বিভাজিত জাতিতেও রয়েছে ঐ বিশৃঙ্খলার জঞ্জাল। তাই আসুণ সকল জঞ্জাল অপসারণে এই বাঙ্গালী জাতির সকলেই একত্রিত হই। ধর্ম, বর্ণ, উঁচু-নীচু ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হই। সবার আগে দেশ আর এই দেশ মার্তৃকার তরে নিজেদেরকে সকল বিভেদের উদ্ধে উঠে ঐক্যবদ্ধ করে উদ্ধগতির ভেড়াজাল মুক্ত করি। সবাই মিলে-মিশে এই দেশে শান্তিতে, নিশ্চয়তাই, নিরাপত্তাই এবং নির্বিঘেœ পথ চলি। বিশে^র বুকে মাথা উঁচু করে পথ চলি এবং গর্বভরে এই জাতির গুড়ে দাঁড়ানোর ইতিহাসকে স্মরণ করি। সকলেই ভাল থাকুন এবং ভাল রাখুন এই কামনায় আগামীর নতুন কোন বিষয়ের প্রতিক্ষায়।