দেশের রাজনীতি এখন দখল ও উচ্ছেদ এবং বহিস্কার আর বিলুপ্ততে মিলেমিশে মশগুল অবস্থায় পর্যবসীত হয়েছে। এই গত কয়েকদিনের কর্মকান্ড পর্যালোচনা করলে বলা যায় সরকারও এই দখল ও উচ্ছেদ এবং বহিস্কার আর বিলুপ্ত নামক নবআবিস্কৃত ঘূর্ণীঝড়ে ঘূর্ণায়মান রয়েছে। এতে দেশের উন্নয়ন এবং গতিশিলতা যেমন পেছনের দিকে যাচ্ছে তেমনিকরে মানুষের জীবনযাত্রাও স্তদ্ধ হয়ে পিছনের দিকে ছুটছে। এটাই কি তাহলে আমার আম জনতার নিয়তি ছিল!
দখল বন্ধ হউক এবং উচ্ছেদ বন্ধ হউক। তবে এইক্ষেত্রে সঠিক আইন ও নিয়ম মেনে বিষয়গুলোর সমাধানে মনযোগী হউন। সরকারের এই ভাল উদ্যোগ ফুটপাত ও রাস্তা জঞ্জালমুক্ত রাখা। পথিকের জন্য উন্মুক্ত রাখা। কিন্তু যারা এতদিন এই ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে রেখেছিল তাদের বিষয়েও ভাবা দরকার। কারণ এই মানুষগুলোও কিন্তু সরকারেরই লোক। তাদের ভোটেও কিন্তু সরকারের আজকের অবস্থান। তাই তাদের পুর্নবাসন করা বা কর্মসংস্থানের বিকল্প ব্যবস্থা করা জরুরী। নতুবা এই জঞ্জালের ভুত আবার সরকারের ঘাড়ে চেপে নতুন বিপদ সংকেত হিসেবে আভির্ভূত হবে।
মানুষ সবাই গরীব এই কথাটি চিরন্তন সত্য। এইখানে কেউ ধনী আবার কেউ গরীব এই কথাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। পৃথিবীর এই অল্পদিনের যাত্রায় আমরা সবাই মুসাফির। তবে যার যার কর্ম এবং প্রচেষ্টা ও আকাঙ্খা এবং সৃষ্টিকর্তার আশির্বাদে বিভিন্ন অবস্থানে দিনাতিপাত করছে মানবকুল। কিন্তু এই অবস্থানের শুরু এবং শেষ উভয়ই কিন্তু গরীবি হালাতে চলছে। শেষ বিদায় এবং বিদায়ের পরবর্তী জীবন কিন্তু গরীবির বাইরে নই। তাই গরীব বলে বা ভেবে কাউকে ছোট করা বা অপবাদ দেওয়া এমনকি অপমান করা অথবা তাদের অধিকার বঞ্চিত করা কোনভাবেই কাম্য নয়। আর সরকারের বেলায়তো নয়ই। কারণ সরকার সকলেরই দায়িত্ব নিয়েছে এবং সকল মানুষই এই সরকারের। তাই সকলের জন্য নিত্য প্রয়োজনীয় যোগান নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।
অপরদিকে বহিস্কার ও বিলুপ্ত ঘোষণা করার প্রতিযোগীতাও বন্ধ করতে হবে। বহিস্কারের মধ্যে সমস্যার সমাধান নেই, বিলুপ্তির মাধ্যমেও সমস্যার সমাধান নেই। তাহলে সমস্যা চিহ্নিত করে সেই সমস্যার সমাধানকল্পে একযোগ্য সবাই মিলে কাজ করতে হবে। দুর্বলতা চিহ্নিত করুন এবং সবলতার বিষয়ে সকলকে জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করুন এবং সৃষ্টিকর্তার সান্নিধ্যে পৌঁছার ব্যবস্থা করুন। যেন জ্ঞান, বুদ্ধি ও বিবেচনাবোধ এবং সততা আর ন্যায়পরায়নতায় পূর্ণতা পায়। আর তখনই বহিস্কার ও বিল্পুপ্ত ঘোষণার প্রয়োজন পড়বে না। আসুন আমরা সবাই সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ সম্বন্ধ স্থাপন করি এবং তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের মনযোগী হই এবং অন্যকেও উদ্ভুদ্ধ করি।
দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে সরকার ও জনগণ একযোগে এগিয়ে যাওয়ার লড়াইয়ে শরীক হতে হবে। সকলের সহযোগীতা নিয়ে সরকারকে এগিয়ে যেতে হবে। শুধু দল বা শুভাকাংখি ও পরিচিতজনদের সহযোগীতা ও পরামর্শ নিয়ে এগিয়ে গেলেই কাংখিত লক্ষ্যে পৌঁছা যাবে না। তবে আপামর জনতার সমর্থন ও সহযোগীতা এবং নিন্দুকের সমালোচনা সহকারে এগিয়ে যেতে হবে। সরকার ভাল কাজ করলে সমালোচনা হবে এবং শত্রু তৈরী হবে। এতে করে সমালোচনাকারী ও শত্রুদেরকে আলিঙ্গনে আবদ্ধ করে আগামীর কল্যাণে ব্যবহার করার ব্যবস্থা করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দুরদৃষ্টিসম্পন্ন জ্ঞান ও প্রজ্ঞা আর বিচক্ষণ দৃষ্টান্ত হতে পারে কুষ্টিয়া মেহেরপুরের সেই সমালোচনাকারী শিক্ষক। যাকে প্রধানমন্ত্রী থানা থেকে পুলিশী পাহাড়ায় বাড়িতে নিরাপদে ও নির্ভয়ে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন। এর থেকে সবারই সুন্দর শিক্ষা নেয়া এবং দেশ গঠনে করনীয় ঠিক করা জরুরী। এই সকল উদাহরণই হতে পারে আগামীর পথ প্রদর্শকের দৃষ্টান্ত।
পুলিশ প্রশাসন এবং পুলিশ বাহিনী ও সরকারী অফিসগুলোতে শৃঙ্খলা এবং সেবার মানুষিকতায় অমুল পরিবর্তন আনতে হবে। প্রত্যেকটি মানুষ যে যার অবস্থান থেকে যেসকল দায়িত্ব পেয়েছে সেই সকল দায়িত্ব সততার সাহিত পালন করার মানুষিক শক্তি ও সাহস এবং জ্ঞান অর্জন করতে হবে। আর এর জন্য প্রয়োজন নিজের সম্পর্কে জানা ও সক্ষমতা সম্পর্কে বুঝা আর সৃষ্টিকর্তার সম্পর্কে জানা ও বুঝা। এই উভয় সম্পর্কে জানা ও বুঝার মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তা ও মানুষের সঙ্গে উত্তম ও অদৃশ্য যোগসূত্র স্থাপিত হবে। আর তখনই সৃষ্টিকর্তা ঐ যোগসুত্র স্থাপিত মানুষগুলোকে ব্যবহার করে সেবার মানোন্নয়ন ঘটাবে এবং সেবার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে। এই দৃষ্টান্তগুলো ছিল এবং আছে কিন্তু আমরা সেগুলোকে গুরুত্ব দিই না বা অনুসরণ করিনা। নিজেরা নিজেদের জ্ঞান ও গুণ এবং ক্ষমতাকে অস্থায়ীভাবে ব্যবহার করি। কিন্তু কখনও স্থায়ীভাবে ব্যবহারের চেষ্টাও করিনা। যদিও করি আর তাও ভুল এবং সামগ্রীক কল্যাণে নয় বরং নিজের ব্যক্তিগত কল্যাণের প্রয়োজনে করি। কিন্তু সেবকদেরকে সৃষ্টিকর্তা সামগ্রিক কল্যাণের তরে সকলের জন্যই প্রেরণ করেন এবং ব্যবহার করেন। তাই আসুণ আমরা সকলেই সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় পরিচালিত ও ব্যবহৃত হতে প্রস্তুতি গ্রহণ করি। আর সেই লক্ষ্যে আর্তমানবতার সেবার প্রসার বৃদ্ধি পাক। সমাজ থেকে দখল ও উচ্ছেদ এবং বহিস্কার আর বিলুপ্ত নামক শব্দগুলো হারিয়ে যাক।