প্রতিবন্ধকতা…

এই প্রতিবন্ধকতায় জর্জরিত ছিল পূর্বের সরকারগুলো এবং বর্তমানেও সেই একই প্রতিবন্ধকতা গূর্ণায়মান। তবে এর থেকে মুক্তির উপায় কি? কবে পাবে মুক্তি এবং কিভাবে এর উত্তরণ ঘটানো যায় তার কোন ছক এখন আবিস্কৃত হয়নি এমনকি এই পথে কাউকে হাটতেও দেখা যায়নি। পরাজিত এবং পলাতক সরকার যেই পথে হেটেছে বর্তমানও ঐ একই পথে হাটছে। এই হাটার স্থায়ীত্ব কম। যে বিষয়গুলো নিয়ে বর্তমান সরকার প্রতিবাদমুখর ছিল এবং আন্দোলন এবং প্রতিবাদে নিপিড়িত হয়েছিল সেই একই বিষয়গুলো আবার নিজেরাও করছে। তাহলে পার্থক্য এবং বৈষম্য এর ফারাক কোথায়?

পুলিশী কাজে বাধা, তদন্তে বাধা, গতিশীলতায় বাধা, উন্নয়নে বাধা, চুক্তিতে বাধা, আবার চুক্তিতে নির্ভরশীলতা, মত প্রকাশে বাধা, স্বাধীনতায় বাধাসহ নানান ঝামেলায় জড়িয়ে এই সরকার। সরকার প্রধান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দেশের কল্যাণে কিন্তু সময় ও শ্রোত এবং দলীয় লোকারণ্যে হারিয়ে যাচ্ছে সরকার প্রধানের প্রচেষ্টা। সরকার প্রধানের দৃষ্টান্ত তাঁর দল ও সরকারেই গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে না। বরং মুখে মুখে সবাই স্বীকার এবং প্রচার করছে কিন্তু বাস্তবে নিজেরা ঐ দৃষ্টান্ত মেনে চর্চায় অগ্রসর হচ্ছে না। তাই প্রতিবন্ধকতা এখন সরকারকে ঘ্রাস করে বসেছে।

বিগত পরাজিত এবং পলাতক সরকারগুলোর পরাজয়ের একটি কারণ ছিল ব্যক্তিস্বার্থ এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ আর দলীয় বিভক্তি। আজ বর্তমান সরকারেও এই বিষয়গুলো প্রতিয়মান। স্বষ্ট হচ্ছে বিভক্তির চিহ্ন, দ্বন্ধ এবং বিশৃঙ্খলার দৃষ্টান্ত। ব্যক্তি স্বার্থের মোহে অন্ধত্বের আচরণ। এইসকলই কিন্তু আগামীর নেতিবাচক সময়কে এগিয়ে আনছে এবং গতহওয়াদের উত্তরাধিকার হিসেবে প্রপ্যতা বুঝে নেয়ার সময় ঘনিয়ে আসছে। সরকার প্রধান এই বিষয়গুলোতে যত তাড়াতাড়ি গুরুত্বারূপ করে ব্যবস্থা নিবেন ততই মঙ্গল।

কথা বলায় প্রতিবন্ধকতা এখন সমাজে মুখরোচক হাস্যরসের সাময়িক আনন্দের খোরাক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আমাদের মন্ত্রী ও উপদেষ্টারা যেসকল বিষয়ে আলোচনা বা বক্তব্য দিবেন সেই বিষয়ে পুর্বপ্রস্তুতি এবং অতিত ও বর্তমান এবং ভবিষ্যত ভেবে উপস্থাপন করবেন। যার যা মনে চায় বা মনে হয় অথবা হরহামেশা যা যা বলেন তা আর বলার সুযোগ নেই। আপনাদের মুখের কথায় কথায় কিন্তু প্রতিবন্ধকতা তৈরী হচ্ছে। এই ভেবে কথা বলবেন মুখের কথা হ্যাঁ যেন হ্যাঁ হয় আর না যেন না হয়। কথার ঘন ঘন পরিবর্তন এবং পরিমার্জন বন্ধ করুন। কথার লাগাম টানুন। নিজেকে পন্ডিত ভাবা বন্ধ করে শলাপরামর্শ করে বিজ্ঞতার সাথে কথার ডেলিভারি দিন।

যদি কোন বিষয়ের সম্পর্কে অবগত না থাকেন তাহলে ঐ বিষয় সম্পর্কে জানুন ও শুনুন এবং সেই জানা ও শোনা এবং বোঝার মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞ্যানের ব্যবহার করুন। তাৎক্ষণিক আচরণের মাধ্যমে নিজেকে, দলকে, সরকারকে এমনকি দেশকে আর নিচে নামাবেন না। পরিস্থিতির মাধ্যমে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে দিবেন না এমনকি নিজেও যাবেন না। এই বিষয়ে আমার ছোট বেলার একটি উদাহরণ এবং সৃষ্টিকর্তার একটি বাণি উল্লেখ করছি। আমার ইন্টারমিডিয়েট পার হওয়ার সময় আমার এফসিএ চাচা একটি নতুন চাকরি পেয়ে কাজ শুরু করছেন কিন্তু কর্মক্ষেত্রে গিয়ে দেখেন উনার অভিজ্ঞতার অভাব কিন্তু তিনি ঐ অফিসের বস। তখন তিনি কথা কম বলে বিজ্ঞতার সহিত সকলের কথা শুনে এমনকি সকলের মতামত নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতেন এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতেন। পরে তিনি বাসায় এসে এইসকল বিষয়গুলো বলতেন। এও বলতেন যে, আমি উচ্চশিক্ষিত কিন্তু অনভিজ্ঞ এবং আমার কর্মচারিরা আমার চেয়ে ভিজ্ঞ এবং তাদের কাছ থেকে শিখে শিখে নিজে অভিজ্ঞ হচ্ছি আর বিশাল দায়িত্ব পালন করছি। আরো অনেক কিছুই বলতেন তবে এই ক্ষেত্রে সৃষ্টিকর্তার বাণীটি হলো “তোমাদের যদি জ্ঞানের অভাব থাকে তাহলে তোমরা আমার কাছে চাও আমি তোমাদের প্রচুর পরিমানে জ্ঞান দিয়ে আশির্বাদ করবো।” হ্যা আমরা মহান রবের কাছে চাইব যেন কঠিন সময়ে তাঁর জ্ঞানের দ্বারা নিজের এবং জগতের কল্যাণে নিয়োজিত থাকতে পারি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য স্পষ্ট সবার আগে বাংলাদেশ। তাই কথা বলার আগে ও পরে সবার আগে বাংলাদেশ এই স্লোগানটি মনে রেখে অগ্রসর হওন। চুক্তি সম্পাদন এবং চুক্তি মূল্যায়ন ও মুলধন বিনিয়োগ এমনকি মানব সম্পদ বিনিয়োগেও এই একই স্লোগানকে সামনে রাখুন। এই স্লোগানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিষয়গুলোকে চিহ্নিত করুন এবং সেই আলোকে সমাধানে নিয়োজিত থাকুন। তবে ব্যক্তি স্বার্থ ও দলীয় স্বার্থ ত্যাগের মহিমা উদ্ভাসিত করুন। সবার আগে বাংলাদেশ এই স্লোগানটি পালনের ক্ষেত্রে ব্যক্তি ও দলীয় এবং সরকারী স্বার্থ ত্যাগই মহান আদর্শ হতে পারে। সবার আগে বাংলাদেশ পরিপালনে সকলের প্রতি মনযোগী হউন। সকলের কথা ও পরামর্শ শুনুন। নিজের ইচ্ছা ও আকাঙ্খার সঙ্গে সকলের ইচ্ছা ও আকাঙ্খা যুক্ত করে অগ্রসর হউন।

কাউকেই অবজ্ঞা নয়, কাউকেই ক্ষেয় নয়, কাউকেই অবমূল্যায়ন নয় এমনকি কাউকেই বাকস্বাধীনতা হস্তক্ষেপ বা বাধা নয় এই বিশ^াসে বলিয়ান হউন। অন্যের মতামতে শ্রদ্ধাশীল হউন। মতামত আমার ও আপনার বিপক্ষে গেলেও শ্রদ্ধা ভালবাসায় আলিঙ্গনে মতামত প্রদানকারীকে উৎসাহিত করুন। যাতে এইভাবে মতামত প্রদান করে আপনার ও আমার আগামীকে সমৃদ্ধ করতে পারে।

প্রতিবন্ধকতারও প্রতিবন্ধকতা আছে এই ভেবে সেই প্রতিবন্ধকতাকে খোঁজ করুন। আর আগামীর কর্মকান্ড থেকে প্রতিবন্ধকতাকে বিতাড়িত করুন। প্রতিবন্ধকতাহীন কর্মকান্ড নিয়ে আগামীর কল্যাণে অগ্রসর হউন। ন্যায়-নিতি ও আদর্শ এবং সততার মাপকাঠিতে সকল কিছু নির্ণয় করে সামনে অগ্রসর হউন। ইনশাআল্লাহ সফলতা শতভাগ সুনিশ্চিত। জয় আমাদের হবেই। আল্লাহ সকলকে হেফাজত করুন॥ আমীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.