পৃথিবীর সকল মানুষকে ঘ্রাস করছে এক অজানা অন্ধকার। শক্তিশালী আর দুর্বলতা এই দুইয়ের চিরায়ত লড়াইয়ের পাশাপাশি অন্ধকার যেন মিলেমিশে মানবকুলকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। সারা পৃথিবীতে বিভিষিকাময় অন্ধকার যেন একে অপরকে নিশ্চিন্ন করার রনাঙ্গনে রুপান্তরিত হচ্ছে। এই রুপান্তরের ফলে লাভের চেয়ে ক্ষতির পাল্লাই বেশী। নিশ্চিন্ন হচ্ছে প্রকৃতি, সৃষ্টিজগত ও মানবকুল। সৃষ্টির সেরাজীব আশরাফুল মাখলুকাত যেন আজ বুনো গাধায় পরিণত হয়ে যাচ্ছে। তবে মাঝে মাঝে প্রকৃতির খেলায় প্রকাশিত হয়েছে বুনো গাধারাও বিবেক সম্পন্ন আচরণে এমনকি মানবিকতায় আত্মপ্রকাশ করেছে। কিন্তু আজ মানবকুলের মাঝে এই আচরণ দিন দিন অনুপস্থিত হয়ে পড়েছে।
চাঁদাবাজি, খুণ, ধর্ষন ও দখল এই বিষয়গুলো একত্রিত হয়ে অন্ধকারকে ঘণিভূত করে তুলেছে। সভ্যতা আজ এক বিভিষিকাময় অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে। মানুষ হারিয়েছে বিভেক, নৈতিকতা ও ঈমান এবং আমল। মোট কথা মানুষ দিন দিন সৃষ্টিকর্তা বিমুখ হয়ে পড়েছে। আর এই সুযোগে অন্ধকার মানুষকে ঘ্রাস করে ফেলেছে। তাই অন্ধকারের সহিত মিলিত হয়েই আজ মানুষের সকল আচরণ প্রতিফলিত হচ্ছে।
যে কোন উপাসনালয়ই পবিত্র। কারণ সেখানে মানুষ তার সৃষ্টিকর্তাকে ডাকে এবং তাঁর সন্তষ্টির লক্ষ্যে স্ব স্ব ধর্মানুযায়ী এবাদত করে। কিন্তু সেই এবাদত খানায়ও আজ অনৈতিক কাজ পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিচার হচ্ছে এবং ফাসি কার্যকরও হচ্ছে। কোথাও কোথাও বিচারের আড়ালে আরেক অন্ধকার ঘ্রাস করে বিচারকে প্রহসনেও পরিণত করছে। এই হল বর্তমানের হালচাল। কোথায় আজ মানবতা? কোথায় আজ ধর্মীয় রীতি ও নিতি আর শরীয়ত ও মারফত এবং সৃষ্টিকর্তার আদেশ ও নিষেধ। সবই যেন হারিয়ে যাচ্ছে এবং মানবকুল দিশেহারা হয়ে অন্ধকারের দিকে ছুটছে।
পরমত সহিষ্ণুতা এবং শ্রদ্ধা ও ভালবাসা ও ¯েœহ যেন আজ বিলিনের পথে। বড়দের শ্রদ্ধা করা আর ছোটদের ¯েœহ ভালবাসায় গড়ে তোলার অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। শাষন বারন যেন অনুপস্থিত হয়ে পড়েছে। আইন-কানুন ও সামাজিক রিতি নীতি ও পারিবারিক শিক্ষা যেন অনুপস্থিত হয়ে পড়েছে। এই সমাজে নতুন কিছু দেখা যাচ্ছে যা অন্ধকার থেকে উৎপত্তি হয়ে সমাজ, পরিবার ও দেশকে ঘ্রাস করে যাচ্ছে। এই অবস্থার উত্তরণের পথে এগিয়ে যেতে হবে। যার যার অবস্থান থেকে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।
ধর্মীয় অনুসাশনের বিকল্প নেই। পারিবারিক শিক্ষারও বিকল্প নেই। তাই সরকার যত দ্রুত এই ব্যবস্থায় ফিরে যেতে পারবে জাতির ততই মঙ্গল হবে। নতুবা অন্ধকারের হাত থেকে রক্ষার আর কোন বিকল্প নেই। স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদরাসা ও মক্তবে শিক্ষা এবং সরকারের আদেশ পরিপালনে তদারকির মাধ্যমে এই অসহায়ত্ব থেকে মুক্তি মিলার সম্ভবনা রয়েছে। তাই সরকারকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। সামাজিকভাবে এই ব্যবস্থায় তৃণমূলকে সংযুক্ত করে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচীর মাধ্যমে অন্ধকার চিহ্নিতকরণ এবং বিতারণের ব্যবস্থা করে রাষ্ট্রকে অন্ধকারের রাহুঘ্রাস থেকে মুক্ত করতে হবে।
আসুন আমরা স্ব স্ব ধর্মের শিক্ষায় শিক্ষীত হই এবং ধর্ম শিক্ষাকে নিজের জীবনে ব্যবহার করি আর সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ককে আরো গভির ও ঘনিষ্ট করি। তাহলেই আজকের এই অন্ধকার বিতারিত হবে এবং নতুন আলোর দিশায় পৃথিবী ফিরে পাবে এক সুন্দর আনন্দ উপভোগ্য নিরাপদ আবাসস্থল। মানুষ নিশ্চয়তায় পৃথিবী নামক অভয়ারণ্যে বিচরণ করবে এটাই স্বাভাবিক এবং সকলের কাম্য। মহান রব আমাদের ঐ ব্যবস্থায় নিয়ে সুখ শান্তি ও স্থিতিশীলতায় দিনাতিপাত করার ব্যবস্থা করুন।