ভজন শংকর আচার্য্য, কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি ॥ কসবা উপজেলার ১০ নম্বর বায়েক ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বেহাল দশা। জরাজীর্ণ ভবন, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, চারপাশে ঝোপঝাড় ও আগাছায় ঘেরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবার স্বাভাবিক পরিবেশ। অথচ প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে শতাধিক মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন এখানে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও রোগীদের বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তিতে পড়ছেন সেবাপ্রত্যাশীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির চারপাশে গজিয়ে উঠেছে ঝোপঝাড় ও বিভিন্ন ধরনের আগাছা। ভবনটির বাহ্যিক অবস্থা জরাজীর্ণ এবং আশপাশের পরিবেশও অপরিচ্ছন্ন। দূর থেকে দেখলে এটি একটি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, তা সহজে বোঝা যায় না। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির নামফলকও চোখে পড়েনি। এমন পরিবেশে চিকিৎসাসেবা নিতে এসে রোগীদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন এ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রায় ১০০ থেকে ১২৫ জন রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। তাঁদের চিকিৎসাসেবা দিতে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন দুজন চিকিৎসক। রোগীর সংখ্যা বেশি হলেও অপেক্ষা করার জন্য বসার ব্যবস্থা অত্যন্ত সীমিত। রোগীদের জন্য রয়েছে মাত্র পাঁচটি চেয়ার। ফলে অনেককে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে কিংবা বসার জায়গা না পেয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, নারী ও অসুস্থ রোগীদের জন্য এ পরিস্থিতি আরও কষ্টকর। ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ ধরনের উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে সহজে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অন্যতম ভরসা এটি। কিন্তু প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি এবং পরিবেশগত সমস্যার কারণে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এদিকে, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে পদায়ন থাকা এমএলএসএস আমেনা বেগম দীর্ঘদিন ধরে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তাঁর পদায়ন বায়েক উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে থাকলেও তিনি সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী। তাঁদের দাবি, পদায়ন অনুযায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করতে হবে, যাতে স্থানীয় জনগণ প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত না হন।
এলাকাবাসীর মতে, একটি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। অথচ বায়েক উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চারপাশে ঝোপঝাড় ও আগাছা থাকায় পরিবেশের স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা, ভবন সংস্কার এবং রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও বলেন, সরকারি অর্থে পরিচালিত এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবার জন্য প্রতিষ্ঠিত। তাই এর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির বর্তমান অবস্থা দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকলে সাধারণ মানুষ কাঙ্খিত সেবা পেতে আরও সমস্যার মুখে পড়বেন বলে তাঁদের আশঙ্কা।
এ বিষয়ে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান ভূইয়া বলেন, হাসপাতাল কম্পাউন্ডের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, নামফলক স্থাপন এবং উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির পরিবেশ উন্নয়নে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, ভবনের প্রয়োজনীয় সংস্কার, দৃশ্যমান স্থানে নামফলক স্থাপন এবং রোগীদের বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি জনবল ব্যবস্থাপনা ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও যথাযথভাবে তদারকি করা দরকার। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে বায়েক উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির বেহাল দশা দূর করবে। এতে একদিকে যেমন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিবেশ উন্নত হবে, অন্যদিকে প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে নির্বিঘেœ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাবেন।